
আসন্ন গণভোটকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাংবিধানিক এই সংস্থা স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণায় যুক্ত হওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে জনমত প্রভাবিত করে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
আইনের ব্যাখ্যা তুলে ধরে ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ৮৬ ধারা অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কেউ যদি তাঁর সরকারি পদ বা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন, তবে তিনি সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।
এ নির্দেশনার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার সব রিটার্নিং কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা নিয়ে বিতর্ক চলার মধ্যেই এই অবস্থান জানাল নির্বাচন কমিশন। একই দিনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদের আওতায় সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের প্রশ্নে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
এরই মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জোরালো প্রচারে নেমেছে। প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানও এ প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। সরকারের উপদেষ্টা ও সহকারীরা দেশব্যাপী গণভোটের পক্ষে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানাতে পারবেন না। যদিও গণভোটের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জনগণকে তথ্য জানানো ও সচেতন করা যাবে।
ইসির পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর ধারা ২১ এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর অনুচ্ছেদ ৮৬ অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কেবল তথ্যভিত্তিক সচেতনতা কার্যক্রম চালাতে পারবেন। এর বাইরে গিয়ে কোনো পক্ষের পক্ষে প্রচারণা চালানো হলে তা গণভোটের ফলাফল প্রভাবিত করার শামিল হবে এবং আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।