
ভারতের দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে আটক ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে মুক্তি দিয়েছে গুরুগ্রাম পুলিশ। একই দিন সিজেপির তিন শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকেও মুক্তির নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি আদালত।
এর আগে শনিবার দিল্লিতে পৌঁছানোর পর উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়েছিল। পরে রোববার সকালে তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর দিল্লি ক্যান্টনমেন্টের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে তাঁদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
এক বছরের শর্তে মুক্তি তিন নেতার
সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং জানিয়েছেন, আগামী এক বছর শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ না করার শর্তে দলটির তিন নেতাকে মুক্তি দিয়েছেন আদালত।
নেতাদের মুক্তির খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপি দাবি করেছে, দিল্লি পুলিশ শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। পোস্টে দলটি আরও লিখেছে, ‘ককরোচরা কখনো মরে না।’
গণগ্রেপ্তারের পরও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা
বিক্ষোভ ঘিরে ব্যাপক ধরপাকড় ও কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও দিল্লিতে ক্ষোভ কমেনি। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে রোববার আবারও বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে সিজেপি।
দলটির যুব ও ছাত্র সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, তাঁদের সব দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে শনিবারের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে প্রায় আড়াই হাজার মানুষকে আটক করে পুলিশ। এর আগের রাতে, অর্থাৎ শুক্রবার দিবাগত রাতেও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে আরও প্রায় এক হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল।
গণগ্রেপ্তারে জাতিসংঘের উদ্বেগ, প্রত্যাখ্যান ভারতের
দিল্লিতে ব্যাপক সংখ্যায় বিক্ষোভকারীকে আটক করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় (ওএইচসিএইচআর)। গণগ্রেপ্তারের খবর প্রকাশের পর সংস্থাটি এ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।
তবে জাতিসংঘের এই প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার। ফলে বিক্ষোভ দমন, আটক ব্যক্তিদের মুক্তি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ ঘিরে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।