
আঞ্চলিক বিরোধ ও সংঘাত শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসায় পাকিস্তানের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তেনিও গুতেরেস। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস (সিডিএফ) ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে তিনি পাকিস্তানের এ ভূমিকার প্রশংসা করেন।
জেনারেল হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে পাকিস্তান ও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর আত্মত্যাগ ও অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান গুতেরেস। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি পাকিস্তানের ধারাবাহিক অঙ্গীকারেরও স্বীকৃতি দেন তিনি। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানে পাকিস্তানের প্রচেষ্টাকে বিশেষভাবে প্রশংসা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।
কাশ্মীর, সিন্ধু পানি ও আফগানিস্তান নিয়ে আলোচনা
আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ, ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখা এবং আফগানিস্তান থেকে উদ্ভূত সন্ত্রাসবাদের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
বৈঠকে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক শান্তির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন আসিম মুনির। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতে পাকিস্তানের অবদানের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও মানবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে গুতেরেসের নেতৃত্বে জাতিসংঘের ভূমিকার প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান।
এর আগে মঙ্গলবার ইসলামাবাদে পৌঁছান গুতেরেস। সেখানে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আঞ্চলিক সংঘাত নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপে পাকিস্তানের ভূমিকার স্বীকৃতি
গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি সংঘাত নিরসনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার মতে, পাকিস্তানের উদ্যোগের ফলেই ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক, পরবর্তী যুদ্ধবিরতি এবং ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তানের এই ভূমিকার জন্য দেশটির প্রত্যেক নাগরিকের গর্বিত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। এ সময় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গত দুই বছরের সদস্য হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
বিশ্বজুড়ে বিভাজন ও পারস্পরিক অবিশ্বাস বাড়তে থাকার প্রেক্ষাপটে বহুপাক্ষিকতা, সংলাপ, মধ্যস্থতা ও কূটনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন গুতেরেস। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের পাশে জাতিসংঘ থাকবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
গুতেরেস বলেন, সন্ত্রাসবাদের কারণে পাকিস্তানকে দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাপক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এবং এতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এত ক্ষয়ক্ষতির পরও পাকিস্তানের জনগণের ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা এবং একটি উন্নত ভবিষ্যৎ নির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয়ের প্রশংসা করেন তিনি।
এর আগে ইসহাক দারের সঙ্গে বৈঠকেও ফিলিস্তিন, জম্মু ও কাশ্মীর, আফগানিস্তান, সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম এবং বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেন গুতেরেস।
ওই বৈঠকে ইসহাক দার জম্মু ও কাশ্মীর এবং সিন্ধু পানি চুক্তি নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান তুলে ধরেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং উত্তেজনা কমাতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়টিও জাতিসংঘ মহাসচিবকে অবহিত করেন তিনি।