
ইরাকে দুই দশকের বেশি সময়ের মার্কিন সামরিক উপস্থিতির অবসান হতে যাচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির শেষ মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকেও সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনকে ক্ষমতাচ্যুত করতে অভিযান শুরুর পর দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির ইতি টানছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও দেশটির মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে ইরাকের কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক আশঙ্কা করছেন, মার্কিন বাহিনীর চলে যাওয়ার ফলে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব বাড়ার পাশাপাশি ইসলামিক স্টেট (আইএস) আবার সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পেতে পারে।
২০০৩ সালে সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতে ইরাকে সামরিক অভিযান চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেনারা ২০১১ সালের শেষ দিকে ইরাক থেকে প্রত্যাহার করে নিলেও ২০১৪ সালে আইএসবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে আবার দেশটিতে ফিরে আসে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের মধ্যে করা সমঝোতা অনুযায়ী ধাপে ধাপে সেই সামরিক উপস্থিতি শেষ করা হচ্ছে।
দুই দশকের বেশি সময়ের ইরাক যুদ্ধে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধে নিজেদের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তবে ইরাকের স্থানীয় কিছু নিরাপত্তা কর্মকর্তা মনে করছেন, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী এখনো সব ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এককভাবে মোকাবিলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়।
এদিকে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। একই সময়ে আইএসের ঘুমন্ত সেল বা গোপন তৎপরতা নিয়ে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে। ফলে মার্কিন বাহিনী চলে যাওয়ার পর ইরাকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি কীভাবে বদলায়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
মার্কিন বাহিনীর প্রত্যাহারের পাশাপাশি ইরাক নিজস্ব নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে। দেশটি নতুন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের চুক্তি করেছে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের কাজ চলছে।