
বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট কিছু বিশেষায়িত ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপাদানে পণ্যভিত্তিক শুল্ক আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। বিরল ও জটিল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের পাশাপাশি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা, কোষভিত্তিক ও জিনভিত্তিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্যও এ সুবিধার আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশসহ মোট ২০টি দেশ ও অঞ্চলকে এ শুল্কছাড়ের আওতায় রাখা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ ও সংশ্লিষ্ট উপাদানের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এই শুল্ক ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত দেশগুলোর যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে।
পণ্যভিত্তিক শুল্ক হলো কোনো পণ্যের মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট শতাংশ হারে আরোপ করা শুল্ক। অর্থাৎ পণ্যের আর্থিক মূল্যের ভিত্তিতে এ ধরনের শুল্ক নির্ধারণ করা হয়।
এর আগে গত ২ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেটেন্ট করা ওষুধ, জীবপ্রযুক্তিভিত্তিক ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট উপাদান আমদানিতে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়েছিল।
শূন্য শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, কোষভিত্তিক চিকিৎসা এবং জিনভিত্তিক চিকিৎসার পণ্য। এ ছাড়া অ্যান্টিবডি-ড্রাগ কনজুগেট (এডিসি) এবং প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধও এ সুবিধা পাবে। এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানও শূন্য শুল্কের আওতায় থাকবে।
বাংলাদেশ ছাড়া ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিচেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনাম এ সুবিধার আওতায় রয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে বলা হয়েছে, এসব দেশের যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এসব দেশের বর্তমান বা আসন্ন বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামো চুক্তিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ট্রাম্পের গত ২ এপ্রিলের ঘোষণার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্টের সেকশন ২৩২-এর আওতায় ওষুধ ও ওষুধ তৈরির উপাদান আমদানিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, জেনেরিক ওষুধ এবং এসব ওষুধের সংশ্লিষ্ট উপাদান সেকশন ২৩২-এর ওষুধবিষয়ক শুল্কের আওতায় পড়বে না।
মূল ঘোষণায় কিছু কারিগরি সংশোধনও আনা হয়েছে। এর মধ্যে জেনেরিক ফার্মাসিউটিক্যাল পণ্যের সংজ্ঞা সংশোধন করে পেটেন্টবিহীন প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্যও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ‘ফার্মাসিউটিক্যাল আর্টিকেল’ বলতে কোন পণ্য বোঝাবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রস্তুত ওষুধ, ওষুধের সক্রিয় উপাদান এবং ওই সক্রিয় উপাদান তৈরির গুরুত্বপূর্ণ প্রাথমিক উপাদান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি