
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিউইয়র্ক ছাড়েন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। বৃহস্পতিবার শহরে এসে জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার পরই ইসরায়েলের উদ্দেশে রওনা হন তিনি। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তাজনিত কারণেই তাঁর সফর সংক্ষিপ্ত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো কারণ জানায়নি।
জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার পর নেতানিয়াহু প্যারাগুয়ে, পানামা ও বলিভিয়ার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় ‘আইজ্যাক অ্যাকর্ডস’-এর আওতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের আশপাশে বিক্ষোভকারীরা সড়ক অবরোধ করে কর্মসূচি পালন করেন। নিউইয়র্ক পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এক বিক্ষোভ থেকে ১০৩ জনকে আটক করা হয় এবং পরে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ জাতিসংঘের দিকে মিছিল করে যায়। একই সময়ে জাতিসংঘের ভেতরেও নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হলে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের একটি অংশ সভাকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি আগে নির্বাচনী প্রচারের সময় বলেছিলেন, নেতানিয়াহু শহরে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করা উচিত। পরে তিনি স্বীকার করেন, নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষের এককভাবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের ক্ষমতা নেই। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা পরোয়ানার প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর সফর ঘিরে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে তাঁর দ্রুত ইসরায়েল ফিরে যাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো সফর সংক্ষিপ্ত করার পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করেছে।