
ইরান যুদ্ধের পর জ্বালানি রপ্তানি নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প পরিবহন ও বাণিজ্যিক করিডোর গড়ে তুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। দেশটির পূর্ব উপকূলে বন্দর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাইপলাইন, রেলপথ ও বিকল্প বাণিজ্যপথ সম্প্রসারণের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন ইউএই প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ।
আবুধাবিতে এক ফোরামে গারগাশ বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ও রপ্তানির ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমাতেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলেও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে আস্থা পুনর্গঠনে অনেক বেশি সময় লাগতে পারে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর হামলার কারণে যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে কয়েক দশকও লেগে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
গারগাশ বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে একটি কার্যকর সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এবং তা করতেই হবে। তবে প্রতিবেশীদের মধ্যে হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।’
তিনি জানান, গত আগস্টে ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক লেনদেন স্থগিত করেছে ইউএই।
উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের হামলার প্রেক্ষাপটে এসব দেশের সম্মিলিত প্রতিক্রিয়ারও সমালোচনা করেন গারগাশ।
তিনি বলেন, বহু বছর ধরে ইরান থেকে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জের ধরন নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মোটামুটি অভিন্ন ধারণা ছিল। সমস্যা ছিল না পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে; বরং সেই অভিন্ন উপলব্ধিকে যথেষ্ট ঐক্যবদ্ধ ও কৌশলগত পদক্ষেপে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে দেশগুলো।
গারগাশের মতে, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আরও সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রয়োজন।
সূত্র: আল জাজিরা