
দীর্ঘদিন বিদেশি অস্ত্র ও প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার পর এবার সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে আরও এক ধাপ এগোনোর দাবি করেছে ভারত। রাশিয়ার নকশায় তৈরি বহুল পরিচিত এ কে-২০৩ অ্যাসল্ট রাইফেলের প্রথম এমন সংস্করণ তৈরি ও পরীক্ষামূলকভাবে গুলি ছোড়া হয়েছে, যার প্রতিটি যন্ত্রাংশ ও ব্যবহৃত কাঁচামাল ভারতের ভেতর থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। নতুন এই সংস্করণের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শের’।
উত্তর প্রদেশের আমেথির কোরওয়া অস্ত্র কারখানায় রাইফেলটি তৈরি করেছে ভারত-রাশিয়ার যৌথ প্রতিষ্ঠান ইন্দো-রাশিয়ান রাইফেলস প্রাইভেট লিমিটেড (আইআরআরপিএল)। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এটি শুধু বিদেশি যন্ত্রাংশ এনে ভারতে জোড়া লাগানোর প্রকল্প নয়; এ পর্যায়ে এসে রাইফেলটির প্রতিটি প্রধান উপাদান ভারতীয় শিল্প থেকেই সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে।
আইআরআরপিএলের প্রধান নির্বাহী ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজর জেনারেল এস কে শর্মা জানিয়েছেন, শতভাগ ভারতীয় উপকরণে তৈরি প্রথম এ কে-২০৩ ‘শের’-এর গুলি ছোড়ার পরীক্ষা সফল হয়েছে। স্বয়ংক্রিয় ও একাধিক গুলি ছোড়ার পরীক্ষাতেও প্রাথমিক ফল আশাব্যঞ্জক। ভারতীয় সেনাবাহিনীর আনুষ্ঠানিক পরীক্ষার জন্য সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আরও কয়েকটি নমুনা হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে ভবিষ্যতে প্রতি ১০০ সেকেন্ডে একটি করে এ কে-২০৩ তৈরির লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভারতের জন্য এ কে-২০৩ প্রকল্পটির ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালে রাইফেলটি ভারতে তৈরির বিষয়ে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে আন্তসরকার চুক্তি হয়। পরের বছর যৌথ প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। পরে ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আইআরআরপিএলের সঙ্গে ৬ লাখ ১ হাজার ৪২৭টি এ কে-২০৩ রাইফেল সংগ্রহের চুক্তি করে। ভারতীয় অংশীদারের হাতে যৌথ প্রতিষ্ঠানের ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ এবং রুশ অংশীদারদের হাতে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ মালিকানা রাখা হয়।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পুরোনো ইনসাস রাইফেল বদলে আরও নির্ভরযোগ্য আধুনিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা। নব্বইয়ের দশকে ভারত নিজস্ব ‘ইনসাস’ রাইফেল তৈরি করলেও দীর্ঘদিন ধরে এর কার্যকারিতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় বাহিনী এ কে সিরিজের অস্ত্রের দিকে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ে। এ কে-২০৩ সেই কালাশনিকভ পরিবারেরই আধুনিক সংস্করণ।
এ কে-২০৩-এ ব্যবহৃত হয় ৭ দশমিক ৬২ বাই ৩৯ মিলিমিটার গোলাবারুদ—যা মূল এ কে-৪৭ পরিবারের পরিচিত ক্যালিবার। রাইফেলটির ওজন খালি অবস্থায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ কেজি। এতে আধুনিক অপটিক্যাল সাইটসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বসানোর ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অস্ত্রটির মৌলিক নকশা ভারতীয় নয়; এর শিকড় রাশিয়ার কালাশনিকভ নকশাতেই।