
ইনস্টাগ্রামের একটি ‘রিলস’-এ ছড়ানো ভুয়া তথ্য বিশ্বাস করে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি আয়ের আশায় ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক তরুণের টেস্টিকল বা অণ্ডকোষ চড়া দামে বিক্রি করা যায়—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন গুজব থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ২০ বছর বয়সী জোহেব খান, ১৮ বছর বয়সী আমির কুরাইশি এবং তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করেছে ভোপাল পুলিশ।
তদন্তকারীরা জানান, দ্বিতীয় বর্ষের বিবিএ শিক্ষার্থী জোহেব খান সাদা অ্যাপ্রন পরে নিজেকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিতেন। তিনি তাঁর সহযোগীদের বোঝান, ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়সী কোনো কিশোরের অণ্ডকোষ আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে ১ কোটি ২০ লাখ রুপি, যা প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকার সমান, আয় করা সম্ভব।
ভোপাল পুলিশের জোন-৩-এর ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) আয়ুষ গুপ্ত জানান, ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও দেখার পর জোহেব নিজেই হত্যার পরিকল্পনা করেন এবং ওই তথ্য অন্যদের জানান।
নিহত কিশোরের নাম রেহান (১৭)। তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর মা একটি গণশৌচাগারে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। রেহানও পরিবারকে সহায়তা করতে শহরের ইকবাল ময়দান ও মতি মসজিদ এলাকায় কলম ও কি-চেইন বিক্রি করত।
পুলিশ জানায়, গত ৬ আগস্ট অন্য কয়েকজন ছেলের সঙ্গে ঝামেলা মেটানোর কথা বলে এবং ১০০ রুপি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রেহানকে ইকবাল ময়দান থেকে নির্জন ঢোবিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর ধারালো ছুরি ও ব্লেড দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর ফোনে জোহেবের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রেহানের অণ্ডকোষ কেটে একটি পলিথিনের ব্যাগে সংরক্ষণ করে অভিযুক্তরা।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হত্যাকাণ্ডের পর ওই অঙ্গটি কার কাছে কোটি টাকায় বিক্রি করা হবে, সে বিষয়ে অভিযুক্তদের কোনো স্পষ্ট ধারণা ছিল না। এমনকি আগে থেকে কোনো সম্ভাব্য ক্রেতার সঙ্গেও তাদের যোগাযোগ ছিল না। কয়েক দিন ধরে অঙ্গটি বিক্রির জন্য সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজেও ব্যর্থ হওয়ার পর তারা বুঝতে পারে, পুরো বিষয়টিই ছিল একটি গুজব। এরপর অঙ্গটি পানিতে ফেলে দেয় তারা।
তদন্তকারীরা চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছেন, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ওই দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক বা চিকিৎসাগত ভিত্তি নেই। এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সংগঠিত মানব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচার চক্রের অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
গত ১০ আগস্ট ছোট তালাবের কাছে ঢোবিঘাট এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত, পচা-গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পেট ও পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়ায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
প্রাথমিকভাবে মরদেহটি শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সেটির দাফন সম্পন্ন করা হয়। পরে ১৫ আগস্ট এক নারী নিখোঁজ ছেলের সন্ধানে পুলিশের কাছে আসেন। এরপর মরদেহের হাতে থাকা একটি বিশেষ ট্যাটু দেখে তিনি সেটি তাঁর ছেলে রেহানের বলে শনাক্ত করেন।
রেহানের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর তার শেষ যাতায়াত এবং পরিচিতদের বিষয়ে নজরদারি শুরু করে পুলিশ। এর পর অভিযুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে বিভ্রান্তিকর ওই রিলসের মূল উৎস খুঁজে বের করার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর পেছনে অন্য কারও প্ররোচনা ছিল কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।
তথ্যসূত্র: এনডি টিভি