
তেহরান হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দিলে ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরমাণু চুক্তির দাবি থেকে সরে আসতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সোমবার (১০ আগস্ট) দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
যুদ্ধ শেষের ভিত্তি হতে পারে হরমুজ উন্মুক্ত করা
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ট্রাম্প এ ধরনের সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নিজের জ্যেষ্ঠ সহযোগীদের কাছে তিনি গোপনে জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে নতুন কোনো পরমাণু চুক্তি ছাড়াই সামরিক অভিযান শেষ করার কথা বিবেচনা করছেন তিনি।
বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে সংঘাত বন্ধ করার ভিত্তি হিসেবে হরমুজ প্রণালিতে আবার জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি ব্যবহার করা হতে পারে।
হরমুজ খোলার বিনিময়ে ইরানের একাধিক শর্ত
তবে আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ উন্মুক্ত করার বিনিময়ে ইরান একাধিক শর্ত দিয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে কোটি কোটি ডলার অর্থ প্রদান, মার্কিন নৌ অবরোধের অবসান, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অবরুদ্ধ ইরানি সম্পদ মুক্ত করা।
তেহরানের দীর্ঘ এই শর্তের তালিকা ওয়াশিংটনের জন্য কূটনৈতিক সমঝোতার পথ আরও সংকুচিত করেছে। ফলে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বন্ধ হরমুজ
ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান ও ওমানের মধ্যবর্তী এই সংকীর্ণ প্রণালিটি বন্ধ করে রেখেছে তেহরান। একই সঙ্গে মার্কিন ও মিত্র নৌযানের চলাচলে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায়েরও চেষ্টা করছে তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
নির্বাচনের আগে চাপে ট্রাম্প
সামনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন থাকায় দেশে পেট্রোলের উচ্চমূল্য কমানো এবং ভোটারদের কাছে সামরিক অভিযানের সফলতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে ট্রাম্প চাপের মধ্যে রয়েছেন।
যদিও ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন, পরে তা অকালপক্ব দাবি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি