
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার একটি থানার সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। হামলায় আরও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।
রোববার (২ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুরে সোয়াত জেলার কাবাল থানার সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে সোয়াতের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ফিদা হোসেন জানান, হামলাকারী শরীরে বিস্ফোরকভর্তি ভেস্ট বেঁধে থানার প্রবেশমুখে বিস্ফোরণ ঘটান। এতে চারজন পুলিশ সদস্যসহ মোট সাতজন নিহত হন এবং ২০ জনের বেশি আহত হন।
অন্যদিকে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, এ হামলায় সাতজন নিহত এবং অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন।
সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) উমর খান বলেন, কাবাল থানার প্রবেশপথে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করছিলেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা। ঠিক সেই সময় তিনি শরীরে বাঁধা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালান।
তিনি আরও জানান, ঘটনার পর পুরো এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলেছে এবং হামলার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে রোববার কাবাল এলাকায় শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভ চলাকালেই থানার ফটকের সামনে শক্তিশালী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সংগঠন স্বীকার করেনি।
এর আগে একই দিন সকালে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে পেশোয়ার-ইসলামাবাদ মোটরওয়ের টোল প্লাজার কাছে একটি আইইডি বিস্ফোরণে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
এরও আগে ৩০ জুলাই হাঙ্গু জেলার একটি পুলিশ চেকপোস্টে সন্ত্রাসী হামলায় নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (পিআইসিএসএস) সর্বশেষ মাসিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একীভূত জেলাগুলো বাদ দিলে শুধু খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশেই জুলাই মাসে বিভিন্ন হামলা ও সহিংসতায় ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন। জুন মাসে এ সংখ্যা ছিল ৭৫ জন। অর্থাৎ মাত্র এক মাসের ব্যবধানে প্রাণহানির সংখ্যা ১০৫ শতাংশ বেড়েছে।
সূত্র: এএফপি, ডন।