
যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ফিলিস্তিনের গাজা সিটির প্রাণকেন্দ্রে আবারও ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সোমবারের (২৮ জুলাই) এই হামলায় একটি ঐতিহ্যবাহী মসজিদ সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে এবং পাশে থাকা বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়শিবিরগুলো চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। মিডল ইস্ট মনিটরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলায় নতুন করে শত শত ফিলিস্তিনি পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রতিবেদনের তথ্যমতে, গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ইয়াং ম্যানস ক্রিশ্চিয়ান অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়াইএমসিএ) কাছেই ছিল আল-মুত্তাকিন মসজিদ। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে মসজিদটিতে সরাসরি বোমা বর্ষণ করা হয়। এতে মসজিদ ভবনের পাশাপাশি চারপাশের বহু ঘরবাড়ি ও তাবু লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছিলেন এসব ক্ষণস্থায়ী তাবুতে।
উল্লেখযোগ্য যে, অলাভজনক খ্রিস্টান সামাজিক সংস্থা ওয়াইএমসিএ দীর্ঘদিন ধরে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গাজার সকল সাধারণ মানুষকে মানবিক সহায়তা প্রদান করে আসছিল। এমনকি ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হলেও তা উপেক্ষা করে প্রতিদিনের মতোই নির্বিচারে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী।
গাজার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলমান সংঘাত শুরুর আগে পুরো গাজা উপত্যকায় ১,২৭৫টি মসজিদ ছিল। যার মধ্যে ১,০৫০টি মসজিদই বোমার আঘাতে সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গেছে এবং ১৯১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছে। অন্যদিকে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া রক্তক্ষয়ী অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং ১ লাখ ৭৪ হাজারের বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব মতে, ইসরায়েলি তাণ্ডবে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামোগত ভিত্তি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।