
ব্রাজিলের রাজনৈতিক অঙ্গনে সরাসরি পা রেখে দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে ‘চোর’ ও ‘দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী’ বলে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেছেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ার মিলেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্রপ্রধানের এমন আক্রমণাত্মক মন্তব্যকে চরম অপমানজনক বলে মনে করছে ব্রাসিলিয়া। এ ঘটনার কড়া জবাব দিতে আর্জেন্টিনায় নিযুক্ত নিজস্ব রাষ্ট্রদূতকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিল, যার ফলে দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান দুই শক্তির সম্পর্কে নতুন করে দেখা দিয়েছে কূটনৈতিক টানাপোড়েন।
বিবিসির বরাতে জানা যায়, গত শনিবার ব্রাজিলের সাঁও পাওলোতে আয়োজিত এক রাজনৈতিক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন হাভিয়ার মিলেই। মূলত আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডানপন্থী সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রচারণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে সরাসরি নাম না বললেও ২০২২ সালের আগের দুর্নীতি মামলায় লুলার কারাদণ্ডের ইতিহাসকে টেনে এনে তাকে লক্ষ্য করে এসব কড়া মন্তব্য করেন মিলেই।
শুধু প্রেসিডেন্ট লুলাই নন, মিলেইয়ের কটাক্ষের শিকার হয়েছেন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েসও। সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান জাইর বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়ার তদারকি করছেন এই বিচারক। এমনকি সম্প্রতি গৃহবন্দী বলসোনারোর সঙ্গে মিলেইকে সাক্ষাৎ করার অনুমতিও দেননি তিনি।
এএফপিকে নাম গোপন রাখার শর্তে এক ব্রাজিলীয় কূটনীতিক জানান, মিলেইয়ের এমন অবিবেচকমূলক মন্তব্য ব্রাজিল সরকার, সেদেশের সাধারণ জনগণ এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরাসরি আঘাতের শামিল।
এদিকে রোববার আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা কারো নাম উল্লেখ না করে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, অন্য কোনো দেশের নেতা ব্রাজিলে এসে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবেন-এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, দক্ষিণ আমেরিকার প্রধান দুই অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক অংশীদার ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার মধ্যে বিদ্যমান অম্ল-মধুর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক মিলেইয়ের এই মন্তব্যের পর আরও তলানিতে গিয়ে ঠেকতে পারে।
উল্লেখযোগ্য যে, আসন্ন নির্বাচনে আবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লুলা। যেখানে তার মূল প্রতিপক্ষ ট্রাম্পঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য সেনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো।