
যুক্তরাষ্ট্রের কেনটাকি অঙ্গরাজ্যে টানা ভারী বর্ষণের পর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নিখোঁজদের খুঁজে বের করতে উদ্ধারকর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের দুর্যোগ সহায়তার আবেদন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন।
রোববার কেনটাকির গভর্নর অ্যান্ডি বেশিয়ার জানান, অঙ্গরাজ্যের কয়েকটি এলাকায় ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট বন্যায় চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং ৬০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে শনিবার পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কেনটাকিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার জন্য বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান গভর্নর। তিনি বলেন, বন্যার পানিতে একটি গাড়ি ভেসে যাওয়ার ঘটনায় একজন চালকের মৃত্যু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় অ্যান্ডি বেশিয়ার বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কয়েকজন কেনটাকিবাসীকে হারিয়েছি। আমি আর কোনো প্রাণহানি চাই না। সবাই নিরাপদে থাকুন।”
ম্যাডিসন কাউন্টির করোনার জিমি করনেলিওনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনজন প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজন প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। অপর একজন পুরুষ ও একজন নারী প্লাবিত একটি বেজমেন্ট কক্ষে আটকা পড়ে মারা যান। তাদের বয়স ৪০ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে।
অন্যদিকে হার্ডিন কাউন্টিতে একটি খালে পড়ে যাওয়া ফোর্ড মাসটাং গাড়িতে আটকে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় লুইভিলের নর্টন চিলড্রেনস হাসপাতালে মারা যায়।
দুর্ঘটনায় জড়িত ৪৪ বছর বয়সী চালককে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও পরে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে তাকে হার্ডিন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। কেনটাকি স্টেট পুলিশের ট্রুপার ব্রায়ান ওয়াশার বলেন, দুর্ঘটনার পেছনে বৈরী আবহাওয়া এবং চালকের মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো—দুই বিষয়ই দায়ী ছিল।
সপ্তাহান্তজুড়ে উদ্ধারকর্মীরা প্লাবিত ঘরবাড়ি ও পানিতে আটকে পড়া যানবাহন থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। ম্যাডিসন কাউন্টিতে পাঁচটি অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ধরনের উঁচু এক্সেলযুক্ত যানবাহন।
বন্যা পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ১৭টি শহর ও কাউন্টিতে স্থানীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অল্প সময়ের মধ্যে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যা সৃষ্টি হতে পারে, যা সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত করার পাশাপাশি নদী ও খালে বিপজ্জনক স্রোতের জন্ম দেয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, গত বছর টেক্সাসের হিল কাউন্টিতে ভয়াবহ বন্যায় ১৩৯ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। নিহতদের মধ্যে একটি গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের ২৫ জন কন্যাশিশু, দুইজন কিশোর কাউন্সিলর এবং একজন পরিচালকও ছিলেন।