
ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলার পর রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়া ও সেভাস্তোপোলে বড় ধরনের বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অঞ্চলজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন, আর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নেওয়া হয়েছে একাধিক কড়াকড়ি ব্যবস্থা।
রুশ-নিযুক্ত সেভাস্তোপলের গভর্নর মিখাইল রাজবোঝিয়েভ জানিয়েছেন, ক্রিমিয়ার বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংকটাপন্ন। তবে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেভাস্তোপলে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে জরুরি সেবাকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। একই সঙ্গে গ্রাহকদের বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি সীমিত ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে অতিরিক্ত চাপ এড়ানো যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত যানবাহনে জ্বালানি বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং গণপরিবহন, দোকান, ক্যাফে ও সড়কবাতি পরিচালনায় সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান-এর তথ্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের ধারাবাহিক দূরপাল্লার ড্রোন ও বিমান হামলায় ক্রিমিয়ার জ্বালানি সরবরাহ ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে উপদ্বীপজুড়ে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দেওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, শুক্রবার রাতে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ৬৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এসব হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে মস্কো ও ক্রিমিয়াও ছিল। যুদ্ধ শুরুর পর এক রাতে এটিকে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলাগুলোর একটি বলে দাবি করেছে মস্কো।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করাই কিয়েভের লক্ষ্য এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ক্রিমিয়া।
এদিকে শুক্রবার ইউক্রেনের নিকোপোল শহরে রুশ ড্রোন হামলায় একটি মিনিবাসের দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১২ জন, যাদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। এছাড়া সাউমি অঞ্চলে পৃথক একটি ড্রোন হামলায় একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট ডেলিভার’ নামের একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে ফ্রান্সের নৌবাহিনী। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রাশিয়ার তেল রপ্তানিতে ব্যবহৃত নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে চলতি বছরে ইউরোপে এ ধরনের মোট নয়টি জাহাজ জব্দ করা হয়েছে। তবে রাশিয়ার দূতাবাস এ ঘটনাকে ‘জলদস্যুতা’ বলে অভিহিত করেছে।
রাশিয়া-নিযুক্ত ক্রিমিয়ার প্রধান সার্গেই আক্সিনোভ জানিয়েছেন, জরুরি অবস্থা ঘোষণার উদ্দেশ্য হলো আর্থিক, ঋণসংক্রান্ত এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা ব্যবস্থাপনা সহজ করা, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দ্রুত ও কার্যকরভাবে দেওয়া যায়।
সূত্র: ইউক্রেনিফর্ম/দ্য কিয়েভ পোস্ট