
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের লারেডো শহরে একটি ছোট আকারের বিমান মহাসড়কের ওপর আছড়ে পড়ে আগুনে ভস্মীভূত হয়েছে। ভয়াবহ এই বিমান দুর্ঘটনায় অত্যন্ত মর্মান্তিক ও আকস্মিকভাবে একজন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতের বেলা এই দুর্ঘটনাটি ঘটার পর পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে যায়।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হয়ে একজনের প্রাণহানি ঘটলেও সৌভাগ্যবশত ওই সময় মহাসড়কে চলাচলকারী অন্য কোনো যানবাহনের চালক বা যাত্রী আহত হওয়ার খবর মেলেনি।
লারেডো পুলিশ বিভাগের তদন্ত কর্মকর্তা হোসে বায়েজা দুর্ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়ে জানান, "রাত ১০টার কিছু পর বিমানটি লুপ-২০ মহাসড়কে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে মহাসড়কের উভয় দিকের যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ঘটনার কয়েকটি খণ্ডচিত্রে দেখা গেছে, বিমানটি তীব্র গতিতে এসে সড়কের একটি নিরাপত্তা ব্যারিয়ারের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। এরপর সেটি একপাশে কাত হয়ে পড়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে পুরো বিমানে দাউ দাউ করে আগুন ধরে ওঠে।
ভয়াবহ এই ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জাইরা গারজা জানান, তিনি তার সহকর্মীদের নিজস্ব বাসায় পৌঁছে দিয়ে ফেরার পথে আকস্মিক এই দুর্ঘটনাটি সচক্ষে দেখেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি লক্ষ্য করেন, বিমানের ভেতরে আটকে পড়া এক ব্যক্তি ককপিটের জানালা ভেঙে কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। এই দৃশ্য দেখে আশপাশের সাধারণ মানুষও কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উদ্ধারকাজে হাত বাড়ান।
তার বিবরণ অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণ পরেই বিমানের মূল দরজাটি খুলে যায় এবং তিন কিশোর-কিশোরী দ্রুত ভেতর থেকে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসে। তাদের ঠিক পেছনেই বিমানের পাইলট বলে ধারণা করা আরও একজন ব্যক্তি বের হন। এর পরপরই ভেতরে থাকা আরেকজন ক্রু সদস্য অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকা এক আরোহীকে টেনে-হিঁচড়ে বিমান থেকে বের করার চেষ্টা করতে থাকেন।
স্মৃতিচারণ করে ঘটনার সেই চরম বীভৎসতা সম্পর্কে গারজা বলেন, "দৃশ্যটা যেন সিনেমার মতো ছিল। আগুন দেখে আমি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলাম। কারণ বিমানটি যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হতে পারত।"
এদিকে, কী কারণে কিংবা কী ধরণের কারিগরি ত্রুটির দরুন বিমানটি এভাবে ব্যস্ততম মহাসড়কের ওপর আছড়ে পড়ল, তার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তবে বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার সঠিক কারণ সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য মেলেনি।