
জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক যুবলীগ নেতাকে তার কর্মস্থল থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুরে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বালিজুড়ী এস এম সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসায় এই মারমুখী ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী হঠাৎ ওই মাদ্রাসায় চড়াও হন। সেখানে কর্মরত আওয়ামী যুবলীগের মাদারগঞ্জ উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান পাক্কীকে (৩৭) তারা জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে অফিস থেকে বের করে আনেন। এরপর মাদ্রাসা ভবনের ভেতরেই তাকে বেদম মারধর করা হয়। একপর্যায়ে মারধরকারীরা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার ও আটক করে নিয়ে যায়।
আটক করার পর ওইদিনই বিকেলে একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলায় যুবলীগের এই নেতাকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযুক্ত ওবায়দুর রহমান পাক্কী মাদারগঞ্জ পৌর শহরের বালিজুড়ী পূর্বপাড়া এলাকার প্রয়াত তোতা মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় যুবলীগের গুরুত্বপূর্ণ পদের পাশাপাশি বালিজুড়ী এস এম সিনিয়র ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার একজন কর্মচারী হিসেবে কর্মরত আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এর আগেও তার বিরুদ্ধে একটি রাজনৈতিক মামলা ছিল। সেই মামলায় গত এপ্রিল মাসে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে কিছুদিন কারাভোগ করেন। পরবর্তীতে জামিনে মুক্ত হয়ে প্রায় এক মাস আগে তিনি পুনরায় মাদ্রাসার কর্মস্থলে যোগদান করেছিলেন।
যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার ও আদালতে পাঠানোর তথ্য নিশ্চিত করে মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই ওবায়দুর রহমান পাক্কীকে আটক করা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে থাকা একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।