
বিহারের সামস্তিপুর জেলার সরাইরঞ্জন ব্লকে নির্মাণাধীন পাটনা-পূর্ণিয়া গ্রিনফিল্ড এক্সপ্রেসওয়ের নকশা বদলকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের দানা বেঁধেছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পের মূল নকশা থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি অংশের রুট সম্পূর্ণ ‘অযৌক্তিক এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে’ পরিবর্তন করা হয়েছে।
এই অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগীদের একটি প্রতিনিধি দল ভারতের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নীতিন গড়করির কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র পাঠিয়েছেন। জমাদানকৃত ওই চিঠিতে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করা না হলেও, স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন যে—সরাইরঞ্জনের জেডিইউ (সংযুক্ত জনতা দল) বিধায়ক তথা বিহারের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরীর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রভাবেই এই নকশায় রদবদল করা হয়েছে।
বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, এই রুট পরিবর্তনের পেছনে মূলত উপ-মুখ্যমন্ত্রীর এক ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দূর সম্পর্কের আত্মীয়কে বিশেষ আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কাজ করেছে।
সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ভিনিত ঈশ্বর ওরফে ববি ঈশ্বর এবং তাঁর পরিবারের মালিকানাধীন প্রায় ১০.৫ বিঘা জমি এক্সপ্রেসওয়ের প্রাথমিক নকশার আওতাভুক্ত ছিল। স্থানীয়দের দাবি, এখন ববি ঈশ্বরের জমি বাঁচাতে গিয়ে যদি নতুন রুটে সড়ক নির্মাণ করা হয়, তবে ওই এলাকায় থাকা ১৫০টিরও বেশি বসতবাড়ি এবং অসংখ্য বাণিজ্যিক দোকানপাট উচ্ছেদের মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, এর ফলে অঞ্চলের অন্যতম প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা ৬৫ বছরের পুরোনো কেদার সান্ত রামাশ্রয় কলেজের একটি বড় অংশ ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে, যেখানে বর্তমানে ছয় হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।
অবশ্য নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সমূলে প্রত্যাখ্যান করেছেন বিহারের উপ-মুখ্যমন্ত্রী বিজয় কুমার চৌধুরী। এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন,
"আমি কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করিনি। সরাইরঞ্জনের সব মানুষই আমার। রুট পরিবর্তন হয়েছে কিনা, তা বলা ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি অব ইন্ডিয়ার বিষয়। এটি আমার এখতিয়ার নয়।"
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস