
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ওয়ারেন্টভুক্ত এক আসামিকে ধরতে গিয়ে মাদক কারবারি ও তাদের সহযোগীদের আকস্মিক হামলার মুখে পড়েছেন পুলিশ সদস্যরা। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে পুলিশের কাছ থেকে একটি ওয়াকিটকি, লোগো সংবলিত বিশেষ জ্যাকেট, ব্যাগ ও কয়েকটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের বালিয়াপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আড়াইহাজার থানার এএসআই মামুনুর রশিদ ও কনস্টেবল সাইফুল ইসলাম আদালতের একটি পরোয়ানা তামিল করতে ওই এলাকায় যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে বালিয়াপাড়া বাজার এলাকায় দুই ব্যক্তির চলাচল সন্দেহজনক মনে হলে পুলিশ তাদের থামার নির্দেশ দেয়। ওই ব্যক্তিরা তাৎক্ষণিকভাবে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের পিছু নেয়। ঠিক তখনই স্থানীয় চিহ্নিত মাদক কারবারি আমির হোসেন ওরফে সামা ও সাহাদত তাদের অনুসারীদের নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় এবং সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে।
একপর্যায়ে পুলিশ ও মাদক কারবারিদের মধ্যে তুমুল ধস্তাধস্তি শুরু হয়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক পুলিশের একটি ওয়াকিটকি, একটি জ্যাকেট, একটি ব্যাগ এবং ব্যাগে থাকা তিনটি মোবাইল ফোন লুট করে নেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ সদস্যরা নিকটস্থ একটি খেলার মাঠে গিয়ে আশ্রয় নেন। সেখানে উপস্থিত স্থানীয় কিছু তরুণ ফুটবলার পুলিশ সদস্যদের চারপাশ থেকে নিরাপদ বেষ্টনী দিলে হামলাকারীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
এদিকে ঘটনাটি থানায় জানাজানি হলে তাৎক্ষণিকভাবে ওসির (তদন্ত) দায়িত্বে থাকা রিপন কুমার ও জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বড় দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সাথে নিয়ে ওই এলাকায় বিশেষ চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ছিনতাই হওয়া ওয়াকিটকি, একটি মোবাইল ও জ্যাকেট উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। একই সাথে মাদক বিক্রেতাদের সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই নারীকে আটক করা হয়, যারা মূলত মূল হামলাকারী সামা ও সাহাদাতের স্ত্রী।
ঘটনার সার্বিক সত্যতা নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন জানান, "অভিযানে যাওয়ার পথে চিহিৃত মাদক কারবারিরা পুলিশের কাছ থেকে সরঞ্জাম ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়। ছিনিয়ে নেওয়া সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাছাড়া ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শনাক্তে পুলিশের অভিযান চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"