
ইরানের সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক ও কৌশলগত চুক্তি আগামী সপ্তাহের মধ্যেই সম্পন্ন হতে পারে বলে জোরালো আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘাত ঘিরে তৈরি হওয়া সাম্প্রতিক কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে আলোচনা এখন চূড়ান্ত রূপ নেওয়ার পথে।
সোমবার (১ জুন) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি নিউজ’ (ABC News)-এর প্রধান ওয়াশিংটন প্রতিনিধি জোনাথন কার্লকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে এই বিস্ফোরক তথ্য দেন।
ট্রাম্প জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে চলমান পরোক্ষ আলোচনায় লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কিছু বড় বাধা তৈরি হয়েছিল। লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক অভিযান এবং এর ফলে ইরানের তীব্র অসন্তোষই ছিল এই আলোচনার প্রধান প্রতিবন্ধকতা। তবে দ্রুত ও ব্যক্তিগত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে নিজের সরাসরি ভূমিকার কথা তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি নিজেই হিজবুল্লাহর প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছি। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও যোগাযোগ করে সামরিক অভিযান থামানোর বিষয়ে জোরালো আলোচনা করেছি।”
ট্রাম্পের দাবি, তাঁর এই মধ্যস্থতার পর উভয় পক্ষই সংঘাত কমাতে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে, যা তেহরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য চুক্তির পথকে অনেক বেশি সুগম ও মসৃণ করেছে।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির আওতায় মূলত চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নিয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, “আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে। যদিও এখনও টেবিলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল বিষয় নিয়ে আলোচনা বাকি রয়েছে।”
দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও অনাস্থা কাটিয়ে ইরানের মতো একটি আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে চুক্তি করা মোটেও সহজ নয় উল্লেখ করে ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আমরা ধীরে ধীরে আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনের দিকেই এগোচ্ছি। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য এই শান্তি চুক্তি যেকোনো সামরিক বিজয়ের চেয়েও অনেক বড় ও মহিমান্বিত অর্জন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।”
হোয়াইট হাউজের ‘সিচুয়েশন রুমে’ ট্রাম্পের খসড়া সংশোধনের নির্দেশের পর, এবিসি নিউজকে দেওয়া তাঁর এই নতুন বক্তব্য ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের বরফ গলার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়ে পরিণত হয়েছে।