
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরানোর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল এবং এতে সহযোগিতা করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী, এমন দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অনুসন্ধানী গণমাধ্যম ড্রপ সাইট নিউজ।
রোববার (১৭ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে গণমাধ্যমটি জানায়, ফাঁস হওয়া কূটনৈতিক তার, অভ্যন্তরীণ নথি ও বিভিন্ন সূত্রের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান করা হয়েছে। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো ‘কেবল আই-০৬৭৮’ নামে একটি গোপন নথি প্রকাশ করা হয়েছে, যেটিকে ইমরান খানকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রক্রিয়ার সূচনাপত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে সিআইএ পরিচালক উইলিয়াম জে. বার্নস ইসলামাবাদ সফর করেন। তবে ইমরান খান তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অস্বীকৃতি জানান এবং কেবল মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। কিন্তু বাইডেন তার ফোনকলের অনুরোধে সাড়া দেননি বলে দাবি করা হয়েছে।
ড্রপ সাইট আরও দাবি করে, আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন ইমরান খান। এরপর থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়ে ওঠে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ও মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র মধ্যে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকের গোপন তারে বলা হয়েছিল, ইমরান খানকে সরানো হলে “সবকিছু ক্ষমা করা হবে”। এই নথিই পরে পাকিস্তানের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দেয়।
২০২২ সালের ৯ এপ্রিল অনাস্থা ভোটে ক্ষমতা হারান ইমরান খান। এরপর তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের বিরুদ্ধে দমন-পীড়ন শুরু হয়। দলটির অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে ইমরান খান কারাবন্দি রয়েছেন।
ড্রপ সাইটের দাবি, ইমরান সরকারের পতনের পর পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে দ্রুত পরিবর্তন আসে। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হয় এবং ইউক্রেনে গোপনে গোলাবারুদ সরবরাহেও পাকিস্তান সহযোগিতা করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক সেনাপ্রধান কামার জাভেদ বাজওয়া এবং বর্তমান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নেতৃত্বে পাকিস্তান যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সঙ্গে নতুন সামরিক ও অর্থনৈতিক সমঝোতায় এগিয়ে যায়।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা মার্কিন প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।