
কূটনৈতিক টানাপোড়েন নতুন করে প্রকাশ্যে এল চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে—আফ্রিকার দেশ ইসওয়াতিনিতে প্রেসিডেন্ট লাই চিং–তের সফর ঘিরে দুই পক্ষের কড়া বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
ইসওয়াতিনির রাজা মাসাওয়াতি তৃতীয়র সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং–তে বলেন, তাইওয়ান বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের পূর্ণ অধিকার রাখে এবং কোনো রাষ্ট্র সেই অধিকার বাধাগ্রস্ত করতে পারে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এই সফর ঠেকাতে চেষ্টা চালিয়েছিল বেইজিং। অন্যদিকে চীন এ সফরকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লাইকে কটূক্তিপূর্ণ ভাষায় আক্রমণ করে, তাকে ‘রাস্তায় দৌড়ানো ইঁদুরের মতো’ বলে উল্লেখ করে।
এর জবাবে তাইওয়ান পাল্টা সমালোচনায় চীনা কর্মকর্তাদের ভাষাকে ‘মাছের ব্যাপারীর মতো অশালীন’ বলে আখ্যা দেয়।
চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং দ্বীপটির স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিরোধিতা করে। বিপরীতে তাইওয়ান নিজেকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সক্রিয় সম্পৃক্ততার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বেইজিং নিয়মিতভাবে অন্যান্য দেশকে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানিয়ে থাকে।
তাইপেইয়ের দাবি, গত মাসে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তিনটি দেশের ওপর চাপ প্রয়োগ করে প্রেসিডেন্ট লাইয়ের বিমানের ওভারফ্লাইট অনুমতি বাতিল করিয়েছিল চীন। এই সফরের উদ্দেশ্য ছিল ইসওয়াতিনিতে রাজা মাসাওয়াতির সিংহাসনে আরোহণের ৪০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া।
বর্তমানে মাত্র ১২টি দেশ তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার মধ্যে ইসওয়াতিনি অন্যতম। প্রায় ১৩ লাখ জনসংখ্যার এই দেশে শনিবার গোপনে পৌঁছান প্রেসিডেন্ট লাই, ইসওয়াতিনি সরকারের একটি বিমানে করে তিনি সেখানে যান।
তাইওয়ানের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, সম্ভাব্য বাধা এড়াতে ‘আগে পৌঁছে পরে ঘোষণা’ কৌশল অনুসরণ করা হয়েছে।
এদিকে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক দপ্তর দাবি করেছে, লাই ‘গোপনে’ ইসওয়াতিনিতে প্রবেশ করেছেন এবং তাকে নিয়ে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে। এর জবাবে তাইওয়ানের মেইনল্যান্ড অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল জানায়, প্রেসিডেন্ট লাইয়ের ভ্রমণের জন্য বেইজিংয়ের কোনো অনুমতির প্রয়োজন নেই এবং চীনা কর্মকর্তাদের ভাষা ‘মাছের ব্যাপারীর মতো অশালীন’ ও গ্রহণযোগ্য নয়।