
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল চলমান সংঘাতের কারণে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং খাতের সূত্র জানাচ্ছে, ইরান এখন ইউয়ান ও স্থিতিশীল ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে টোল নেওয়ার মাধ্যমে জাহাজ পারাপারের ব্যবস্থা করছে। এই পদক্ষেপ মূলত যুদ্ধ ও নিরাপত্তাজনিত জটিলতা সামলানোর জন্য নেওয়া হয়েছে।
পরস্য উপসাগরে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলোকে হরমুজ প্রণালি পার করানোর আগে মালিক, পতাকা, পণ্যের বিবরণ, গন্তব্য, নাবিকদের তালিকা এবং স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ ব্যবস্থার (AIS) তথ্য জমা দিতে হয়। এসব তথ্য আইআরজিসি নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। অনুমোদনের পর টোল পরিশোধ এবং দরকষাকষি শুরু হয়, যা বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোকে তুলনামূলকভাবে সুবিধা দেয়।
জাহাজগুলোকে প্রণালিতে পৌঁছালে ভিএইচএফ রেডিওর মাধ্যমে প্রাপ্ত পাসকোড সম্প্রচার করতে হয়। এরপর নৌ টহল তাদের নিরাপদভাবে প্রণালি পার করায়। অনেক ক্ষেত্রেই অনুমোদিত দেশের পতাকা তুলতে বা আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন পরিবর্তন করতে হয়। সূত্র জানায়, পাকিস্তানের পতাকাবাহী জাহাজ সংখ্যা সীমিত হওয়ায় ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাময়িকভাবে তাদের পতাকা নেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, তবে তা গৃহীত হয়নি।
বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক‑পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। শিপিং খাতের কর্মকর্তা এবং সরকারি সূত্ররা জানিয়েছেন, ইরান বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোর জাহাজকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং যেসব দেশকে প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করছে, তাদের জাহাজে হুমকি ও জটিলতা বাড়াচ্ছে।
শিপিং সংক্রান্ত তথ্য থেকে দেখা যায়, সাম্প্রতিক এক সপ্তাহে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছে, তবে যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে যে ভলিউম ছিল, তার তুলনায় এখনও অনেক কম। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটি হরমুজ প্রণালিতে ফি আরোপ সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করেছে এবং আনুষ্ঠানিক আরও একটি ব্যবস্থার রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।