
ইরান যুদ্ধ ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বিপুল অর্থ জোগাড়ের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে। প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্যে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় কমানোর চিন্তা করছে রিপাবলিকান দল।
অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন হাউস বাজেট কমিটি বর্তমানে এই সম্ভাব্য ব্যয় সংকোচনের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করছে।
এই উদ্যোগ নির্বাচনী বছরে দলটির জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইতোমধ্যে ডেমোক্র্যাটরা অভিযোগ তুলেছে, ‘অপ্রিয় যুদ্ধের’ খরচ মেটাতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় কাটছাঁট করতে চাইছে গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টি। রিপাবলিকান নেতারা অবশ্য জালিয়াতি ও অপচয় রোধের যুক্তি দেখিয়ে মেডিকেইডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির ব্যয় কমানোর পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন।
হাউস মেজরিটি লিডার স্টিভ স্কেলিস জানিয়েছেন, ফেডারেল কর্মসূচিগুলোতে কোথায় অপব্যবহার বা জালিয়াতি হচ্ছে তা শনাক্ত করে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ খোঁজা হচ্ছে। অন্যদিকে হাউস বাজেট কমিটির চেয়ারম্যান জোডি আরিংটন ‘অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট’ বা ওবামাকেয়ারের আওতায় কিছু বিশেষ পেমেন্ট কমানোর প্রস্তাব আবারও সামনে এনেছেন।
কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের হিসাবে, এসব পদক্ষেপ কার্যকর হলে প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। তবে এর ফলে অন্তত ৩ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিমার আওতা হারাতে পারেন এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ও বাড়তে পারে। রিপাবলিকানরা এই বিল পাসে সিনেটের বাধা এড়াতে ‘রিকনসিলিয়েশন’ প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে চাইছে, যাতে দলীয় ভোটেই সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়।
যদিও আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে, তবুও দলটির ভেতরেই মতভেদ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপন্থী রিপাবলিকানরা নির্বাচনের আগে স্বাস্থ্য খাতে কাটছাঁটের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সমর্থন দিতে দ্বিধায় রয়েছেন। নেব্রাস্কার প্রতিনিধি ডন বেকনসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, চূড়ান্ত প্রস্তাব কী হয় তা দেখার জন্য তারা অপেক্ষা করছেন।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওষুধের দাম নির্ধারণের একটি প্রস্তাব পাসে কংগ্রেসের ওপর চাপ দিচ্ছেন। তবে রিপাবলিকান নেতৃত্ব এখন পর্যন্ত ওষুধের দাম কমানোর পরিবর্তে বিমা ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় ব্যয় সংকোচনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
জোডি আরিংটন ব্যক্তিগতভাবে মেডিকেয়ারে দুটি বড় পরিবর্তনের পক্ষে। এর একটি হলো ‘সাইট-নিউট্রাল’ পেমেন্ট, যার মাধ্যমে হাসপাতালের আউটপেশেন্ট সেবা ও চিকিৎসকদের চেম্বারের ফি সমান করা হবে। অন্যটি হলো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ ব্যবস্থায় বিমা কোম্পানিগুলোর অনিয়ম ঠেকানো। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, এসব উদ্যোগকে ‘মেডিকেয়ারের বাজেট কাটছাঁট’ হিসেবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে।
এছাড়া মেডিকেইড কর্মসূচির আওতায় কিছু অঙ্গরাজ্যে অনিবন্ধিত অভিবাসীদের দেওয়া সুবিধা বন্ধের বিষয়েও আলোচনা চলছে। আরিংটনের আশা, আগামী ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যেই এই বিল পাস করা সম্ভব হবে।
এদিকে পরিকল্পনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই ডেমোক্র্যাটদের কড়া প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন এক্সে লিখেছেন, ‘কংগ্রেসের রিপাবলিকানরা ইরানে আরও যুদ্ধের জন্য অর্থ জোগাতে আমেরিকানদের স্বাস্থ্যসেবা কেটে নিতে চায়—বিষয়টি ভাবুন।’
সব মিলিয়ে, এই বিতর্কিত বাজেট প্রস্তাব শুধু ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারণী মহলেই নয়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, যুদ্ধের বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবায় কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস