
ইরানের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এখন এক মাস পূর্ণ করতে চলেছে। চলমান এই চার সপ্তাহের আক্রমণে ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
ইরানের উপ-স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলি জাফরিয়ান জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৯৩৭ জন নিহত এবং ২৪,৮০০ জন আহত হয়েছেন।
লেবাননেও একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, জাহরানি নদীর দক্ষিণে বসবাসকারী সব মানুষকে এলাকা ত্যাগের চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এই এলাকায় ২ মার্চ থেকে হামলা শুরু হওয়ার পর লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী ১,১০০ এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তেহরানও চুপচাপ বসে নেই; ইরান ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিগুলিতে বিধ্বংসী প্রতিহামলা চালিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় এখন পর্যন্ত ইসরায়েলে ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া লেবাননে স্থল অভিযান চালাতে গিয়ে অন্তত ৩ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে মার্কিন সেনাদের। উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের নিশানায় অন্তত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছে। অধিকৃত পশ্চিম তীরে আরও ৪ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে ২০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ইরাকে মোতায়েন নিরাপত্তা বাহিনীর ৮০ জন সদস্যও এই সংঘাতের শিকার হয়েছেন।
এই যুদ্ধে সূচনা ঘটে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে, যখন তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হঠাৎ বিমান হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। এরপর থেকে ইরান প্রতিশোধের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার এই অভিযানে ‘বিজয়’ দাবি করেছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানে তাদের লক্ষ্যগুলো প্রায় পূর্ণ হয়ে এসেছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে বাস্তবতা ভিন্ন; ইরান ও হিজবুল্লাহ তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করেছে।
ইসরায়েল বর্তমানে লেবাননে সামরিক উপস্থিতি বহুগুণ বাড়িয়েছে। তারা মূলত ইরানের প্রধান মিত্র হিজবুল্লাহর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসে মনোনিবেশ করেছে। ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহকে নির্মূল না করা পর্যন্ত তারা কোনো কূটনৈতিক সমাধানের কথা ভাবছে না।