
ইরানের অনুরোধে হামলা স্থগিত—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবির বিপরীতে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা, যা পুরো পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
মধ্যস্থতাকারীদের দাবি, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বন্ধ রাখার কোনো অনুরোধ জানায়নি। অথচ এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তেহরানের অনুরোধেই ৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামলা স্থগিত রাখা হয়েছে—এমন তথ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে।
এই দুই ভিন্ন অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে এবং বিষয়টি নিয়ে স্পষ্টতা তৈরি হয়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান, ফলে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাও অনিশ্চিত রয়ে গেছে।
ওয়াশিংটনের দেওয়া প্রস্তাবের মূল শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা, ক্ষেপণাস্ত্র কার্যক্রম কমানো এবং আঞ্চলিক প্রভাব হ্রাস করা; এর বিনিময়ে দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে। তবে তেহরানের কর্মকর্তারা এসব শর্তকে “অত্যধিক এবং অযৌক্তিক” বলে উল্লেখ করেছেন।
বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে অনীহা প্রকাশ করেছে ইরান। একই সঙ্গে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতিও তারা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ফলে এখনো চূড়ান্ত কোনো অবস্থান না নেওয়ায় সংঘাত থামার কোনো সুস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।
মধ্যস্থতাকারীদের মতে, উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে ফেলুক, অন্যদিকে তেহরান তাদের সার্বভৌমত্ব এবং হরমুজ প্রণালী-এর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে চায়।
এই পরস্পরবিরোধী অবস্থানের কারণে কার্যকর যুদ্ধবিরতি অর্জন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ১০ দিনের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করেছে, বাস্তবে কোনো পক্ষই তাদের সামরিক অবস্থান থেকে সরে আসেনি। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সময়সীমা মূলত উভয় পক্ষের কৌশল পুনর্বিন্যাসের সুযোগ হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে মধ্যস্থতাকারীদের প্রচেষ্টা এখনো ফলপ্রসূ হয়নি। ইরান তাদের জ্বালানি অবকাঠামো রক্ষায় কোনো বিশেষ অনুরোধ না জানালেও, তারা যুক্তরাষ্ট্রের চাপ মেনে নেওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। অপরদিকে হোয়াইট হাউস তাদের ১৫ দফা প্রস্তাবের ভিত্তিতেই সমাধান খুঁজে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে আবারও বড় ধরনের হামলা শুরু হতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক তেলের বাজার—উভয়ই এখন দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি