
যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থার এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক রবার্ট মুলার ৮১ বছর বয়সে মারা গেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে তার মৃত্যু হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, গভীর শোকের সঙ্গে মুলারের পরিবার এই খবর প্রকাশ করেছে এবং এই কঠিন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।
রবার্ট মুলারের স্বাস্থ্যের অবনতি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। ২০২১ সালে তার শরীরে পারকিনসনস রোগ শনাক্ত হয়, যা পরিবারের পক্ষ থেকে গত বছরের আগস্টে প্রকাশ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও বিচার ব্যবস্থায় তার দীর্ঘ অবদানের কারণে তিনি ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের কাছেই সমানভাবে সম্মানিত ছিলেন।
তার কর্মজীবন ছিল বহুমাত্রিক এবং উল্লেখযোগ্য ঘটনাবহুল। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ঠিক আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ তাকে এফবিআইয়ের পরিচালক হিসেবে মনোনীত করেন এবং তিনি সর্বসম্মতিক্রমে দায়িত্ব পান।
সন্ত্রাসী হামলার পরের অস্থির সময়ে তিনি দক্ষ নেতৃত্ব দিয়ে সংস্থাটিকে পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হলে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিশেষ ব্যবস্থায় তার দায়িত্ব আরও দুই বছর বাড়ান। ফলে টানা ১২ বছর দায়িত্ব পালন করে তিনি জে. এডগার হুভারের পর এফবিআইয়ের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় দায়িত্ব পালনকারী পরিচালকদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি পান।
মার্কিন রাজনীতিতে মুলার সবচেয়ে বেশি আলোচিত হন ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ তদন্তে বিশেষ কাউন্সেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কারণে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার সম্ভাব্য যোগসাজশ নিয়ে তার তদন্ত প্রতিবেদনটি মার্কিন গণতন্ত্র ও বিচারিক নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়। তার সততা ও নিরপেক্ষতার প্রতি দুই দলেরই দীর্ঘদিনের আস্থা ছিল, যা মার্কিন রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরল।
জীবনের শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আইন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি তার অঙ্গীকার অটুট ছিল। তার মৃত্যুতে দেশটির রাজনৈতিক ও বিচারিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা তাকে একজন দেশপ্রেমিক এবং আইনের শাসনের দৃঢ় রক্ষক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মুলারের মৃত্যু কেবল তার পরিবারের জন্য নয়, বরং মার্কিন বিচার বিভাগ ও এফবিআইয়ের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন