
যুক্তরাষ্ট্রের ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত খরচ হয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলার, যা দেশটির অর্থনীতির উপর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই আগ্রাসন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে শুরু করা হয়।
রোববার (১৫ মার্চ) সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল ইকোনমিক কাউন্সিলের পরিচালক কেভিন হ্যাসেট। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত আমাকে দেওয়া সর্বশেষ ব্রিফিং অনুযায়ী এই হিসাব পাওয়া গেছে।”
সাক্ষাৎকার চলাকালে সিবিএসের উপস্থাপক মার্গারেট ব্রেনান উল্লেখ করেন, শুধু অস্ত্রশস্ত্রের জন্যই প্রথম সপ্তাহে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হয়েছে। এই দাবির বিষয়ে হ্যাসেট সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
প্রাথমিকভাবে হ্যাসেট এই খরচকে পুরো যুদ্ধের সম্ভাব্য মোট ব্যয় হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছিলেন, তবে সাক্ষাৎকারের মধ্যেই বিষয়টি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে বাধ্য হন।
যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখার বিষয়ে হ্যাসেট তুলনামূলকভাবে উদাসীন। তিনি বলেন, “আর্থিক বাজার ইতিমধ্যেই ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট দ্রুত সমাধান এবং জ্বালানির দামের উল্লেখযোগ্য পতনের পূর্বাভাস দিচ্ছে।”
তবে হ্যাসেটের এই বক্তব্য দেশের ভোক্তাদের উদ্বেগের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যেহেতু পেট্রলপাম্পে জ্বালানির দাম ক্রমবর্ধমান।
বিশ্ববাজারে মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আসে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের হুমকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যার ফলে তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে হ্যাসেটের যুক্তি হলো, হরমুজ প্রণালির ব্যাহত পরিবহনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, “ইরান যা করছে তার কারণে আমেরিকার অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে না।”