
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক শীর্ষ উপদেষ্টা দাবি করেছেন, ইরানকে ঘিরে দীর্ঘদিনের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৈশ্বিক তেলের দামে একটি “সন্ত্রাস প্রিমিয়াম” বা অতিরিক্ত মূল্য যোগ করেছে, যা কয়েক দশক ধরে বাজারকে প্রভাবিত করছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) হোয়াইট হাউসের ট্রেড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং পলিসি দপ্তরের প্রধান পিটার নাভারোর একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত বা হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল তেলের দামে অতিরিক্ত ৫ থেকে ১৫ ডলার পর্যন্ত যোগ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝুঁকির কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৭% থেকে ২১% পর্যন্ত বেশি থেকেছে। এর ফলে প্রতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতির ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০০ বিলিয়ন থেকে ৪৫০ বিলিয়ন ডলার। দীর্ঘমেয়াদে এর মোট প্রভাব ১০ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, যদি ইরানকে ঘিরে এই ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি দূর হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে প্রতি ব্যারেল ৬০ ডলারের নিচেও নেমে আসার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে।
তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশ্লেষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। হিউস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্বালানি অর্থনীতিবিদ এড হির্স বলেন, প্রতিবেদনের এই হিসাবের পক্ষে শক্ত প্রমাণ নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তেল উৎপাদনের ব্যয় তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় এত কম দামে বাজার স্থিতিশীল থাকবে কি না তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।
হির্স সতর্ক করে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক খরচও অনেক ক্ষেত্রে কম করে ধরা হয় বা উপেক্ষা করা হয়।
প্রতিবেদনটি মূলত ইরানকে কেন্দ্র করে কঠোর নীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের কৌশলের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।