
মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা সমুদ্রের দানব হিসেবে পরিচিত, আরব সাগরে অবস্থানকালে ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) রণতরীটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আব্রাহাম লিংকনে হামলা চালানো হয়েছে। বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, রণতরী এই আঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসির জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, অপারেশন ‘ট্রু প্রমিস ৪’-এর অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েল এবং অঞ্চলের যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদিদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানের ধারাবাহিকতায় এ হামলা চালানো হয়েছে।
বিপ্লবী বাহিনী স্থানীয় গণমাধ্যমে একটি বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছেন, “স্থল ও সমুদ্র ক্রমেই সন্ত্রাসী আগ্রাসনকারীদের কবরস্থানে পরিণত হবে।” তারা আরও উল্লেখ করেছেন যে, সশস্ত্র বাহিনী সামরিক সংঘাতের ‘নতুন পর্যায়ে’ প্রবেশ করেছে এবং স্থল ও সমুদ্র জুড়ে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এর আগে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি হত্যার প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি উপেক্ষা করে রোববার (১ মার্চ) পুরো পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা চালানো হয়।
তেহরানে শোকাহত জনতার ভিড়ের মধ্যেই বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে যে তারা রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে নতুন হামলা চালাচ্ছে।
আইআরজিসি রোববার একটি ‘বৃহৎ পরিসরের’ হামলার ঘোষণা দেয়। রিয়াদ, দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামা, জেরুজালেম এবং তেল আবিবে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা সর্বশেষ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির হত্যাকাণ্ডকে “মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা” হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সতর্ক করেছেন যে, ইরান এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও হোতাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়াকে তার বৈধ কর্তব্য ও অধিকার মনে করে।