.jpg)
চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে গোপন বৈঠকের অভিযোগে মাত্র চার মাসের মাথায় ক্ষমতা হারালেন পেরুর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হোসে জেরি। তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে অপসারণ করেছে পেরুর কংগ্রেস।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। তখন সরকারের নজরদারিতে থাকা চীনা ব্যবসায়ী জিহুয়া ইয়াং-এর সঙ্গে জেরির একাধিক বৈঠকের ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। ইয়াং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক এবং একটি জ্বালানি প্রকল্পে রাষ্ট্রীয় কনসেশনপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা।
বিবিসি জানায়, বৈঠকের বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করলেও জেরি কোনো অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেননি। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। গত বছরের অক্টোবরে অভিশংসনের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রেসিডেন্ট দিনা বোলুয়ার্তে-র স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর টানা তৃতীয় প্রেসিডেন্ট হিসেবে অপসারিত হলেন জেরি।
২০১৬ সালের পর থেকে জেরি ছিলেন দেশটির সপ্তম প্রেসিডেন্ট। সরাসরি জনভোটে নির্বাচিত না হয়ে কংগ্রেসের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিয়েছিলেন।
চীনা-পেরুভীয় ফিউশন খাবার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম এই কেলেঙ্কারির নাম দেয় ‘চিফা-গেট’। বিবিসির তথ্যমতে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমই প্রথম সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পেরুর আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের সব সরকারি কার্যক্রম নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু জেরি ওই বৈঠকগুলোর কোনো রেকর্ড সংরক্ষণ করেননি। পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে গভীর রাতে বৈঠকের পর কয়েকজন নারীকে রাষ্ট্রীয় চুক্তি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
বুধবার কংগ্রেস নতুন এক অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টের নাম ঘোষণা করবে, যিনি আগামী এপ্রিলের সাধারণ নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন।