.jpg)
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করতে আগ্রহী। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও এই তথ্য জানিয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও বলেন, “জাতিরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া অপরিহার্য—আমি এমন একজন প্রেসিডেন্টের প্রশাসনে কাজ করছি, যিনি মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে, তাদের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী। এ ক্ষেত্রে তার কোনো বাধা নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি, যদি আয়াতুল্লাহ আগামি দিন ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক চান, তবে প্রেসিডেন্ট তা করবেন। এর মানে ট্রাম্প আয়াতুল্লাহর সঙ্গে সব বিষয়ে একমত— এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। তিনি বিশ্বাস করেন, পৃথিবীর সমস্যা সমাধানের জন্য এভাবেই সংলাপ জরুরি।”
রুবিও উল্লেখ করেন, “ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। ইরানের হাতে পরমাণু বোমা এলে তা মধ্যপ্রাচ্য ও পুরো বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ হবে। এর বাইরে ইরানের সঙ্গে যে যেসব ইস্যু আছে, আমরা সেগুলো কূটনৈতিক মাধ্যমে মিটিয়ে নিতে চাই।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা প্রায় দুই দশক ধরে চলছে। ২০১৬ সালে ট্রাম্প প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর এই উত্তেজনা বাড়ে। দ্বিতীয় মেয়াদে (২০২৪) নির্বাচিত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। ২০২৫ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত হয় এবং অপারেশন মিডনাইট হ্যামার চালায়।
এরপরও কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হয়নি। ডিসেম্বরে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা বাড়ে। বিক্ষোভ দমন চলাকালীন ট্রাম্প সামরিক হুমকি দিয়েছিলেন, তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত তিনি অভিযান চালাননি।
একই সময়ে, আরব সাগরে USS Abraham Lincolnসহ যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আরব সাগর, লোহিত সাগর, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫টি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত রণতরী টহল দিয়ে চলছে।
রুবিও বলেন, “ইরান অতীতে বারবার আমেরিকার স্বার্থে আঘাত করেছে। সেই কারণে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।”
সূত্র: ব্লুমবার্গ/এএফপি