
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড (আইআরজিসি)-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করার জবাবে ইরান তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ ঘোষণা দেন। বিপ্লবী গার্ডের পোশাক পরে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “আইনের ৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় ইউরোপীয় দেশগুলোর সেনাবাহিনীকে এখন থেকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করা হবে।”
গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তা কঠোরভাবে দমন করে আইআরজিসি। এই দমন-পীড়নের জেরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতীকী পদক্ষেপ হিসেবে গত সপ্তাহে বিপ্লবী গার্ডকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে।
এ প্রসঙ্গে গালিবাফ আরও বলেন, “বিপ্লবী গার্ডের ওপর আঘাত হানতে গিয়ে ইউরোপীয়রা কার্যত নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রকে অন্ধভাবে অনুসরণ করতে গিয়ে তারা আবারও নিজেদের জনগণের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এর মধ্যে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে।
ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শাহ শাসনের পতনের মধ্য দিয়ে ইরানে ইসলামিক বিপ্লব সফল হওয়া পর সেই বিপ্লব রক্ষার উদ্দেশ্যে এই বাহিনী গঠন করা হয়। যদিও এটি ইরানের সামরিক বাহিনীর একটি বিশেষ শাখা, দেশটির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত বিভিন্ন খাতে বিপ্লবী গার্ডের প্রভাব ব্যাপক। পাশাপাশি, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তত্ত্বাবধানও এই বাহিনীর দায়িত্বে রয়েছে।