
চীনের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে বড় পদক্ষেপ নিল ব্রাজিল। দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা শুক্রবার ঘোষণা করেছেন, নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে চীনা নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসা মওকুফ করা হবে। চীনের পক্ষ থেকে ব্রাজিলীয় নাগরিকদের ভিসা ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এজেন্সিয়া ব্রাসিলের বরাতে প্রেসিডেন্সির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, চীন ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে ভিসামুক্ত প্রবেশের নীতি চালু করে। এই তালিকায় ব্রাজিলের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, চিলি, পেরু ও উরুগুয়ে রয়েছে। প্রথমে এক বছরের জন্য কার্যকর হওয়া এ নীতি পরে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
ব্রাজিল সরকারের মতে, চীনা নাগরিকদের জন্য ভিসা ছাড়ের সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করা। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বেইজিংয়ের লাতিন আমেরিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের বৃহত্তর কৌশলের অংশ।
প্রেসিডেন্ট লুলা বৃহস্পতিবার রাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিটের এক টেলিফোন আলাপে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আলোচনায় ২০২৪ সালের নভেম্বরে শি জিনপিংয়ের ব্রাজিল সফরের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রগতি, ‘ব্রাজিল-চীন কমিউনিটি অব শেয়ার্ড ফিউচার ফর এ মোর জাস্ট ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড এ মোর সাসটেইনেবল প্ল্যানেট’ গঠন, পাশাপাশি অবকাঠামো, পরিবেশগত রূপান্তর ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা নিয়ে কথা হয়।
এ সময় দুই নেতা শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতিসংঘের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। শি জিনপিং বলেন, চীন ও ব্রাজিলকে গ্লোবাল সাউথের স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং বর্তমান অস্থির আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বজায় রাখা জরুরি। অন্যদিকে লুলা বলেন, বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক আইন ও মুক্ত বাণিজ্য রক্ষায় ব্রাজিল ও চীন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
ব্রাজিল সরকার জানিয়েছে, ভিসা মওকুফ নীতির সুনির্দিষ্ট কার্যকর হওয়ার তারিখ পরে জানানো হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।