
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের সম্ভাব্য সামরিক জোটে যোগদানের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক মহলে জোরালো আলোচনা ও জল্পনা তৈরি করেছে। জোটটি পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবকে কেন্দ্র করে গঠিত হতে পারে।
গত কয়েক মাসে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সামরিক বৈঠক এবং পাকিস্তান ও সৌদি আরবের বিদ্যমান কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি এই সম্ভাব্য জোটের বিষয়ে নতুন হাওয়া দিয়েছে। বিশ্লেষকেরা মনে করেন, নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যোগ দিলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
জোটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি থেকে। চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলাকে উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে যা ন্যাটোর সম্মিলিত প্রতিরক্ষা নীতির আদলে তৈরি।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কও জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ের আলোচনা চালাচ্ছে। পাকিস্তান পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এবং তুরস্কের রয়েছে ন্যাটোর দ্বিতীয় বৃহত্তম সেনাবাহিনী, যা সৌদি আরবের আর্থিক শক্তির সঙ্গে মিলিত হয়ে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় কাঠামো গঠন করতে পারে।
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে পাকিস্তানের সৌদি-মডেলের প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুসারে খসড়া চুক্তি তৈরি করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। গত এক বছরে পাকিস্তানি সামরিক নেতৃত্বের ঢাকা সফরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধানের পাকিস্তান সফরে জেএফ-১৭ থান্ডার (JF-17 Thunder) যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, যা ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পাকিস্তান ইতিমধ্যে বাংলাদেশের জন্য সুপার মুশাক (Super Mushshak) প্রশিক্ষণ বিমান দ্রুত সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা কেবল ক্রয়-বিক্রয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং যৌথ সামরিক মহড়ার সুযোগও রয়েছে।
তবে, এই জোটে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যোগদান নির্ভর করছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর গঠিত সরকারের পররাষ্ট্রনীতি-এর উপর। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের অধীনে খসড়া চুক্তির কাজ অনেকদূর এগিয়েছে, তবে চূড়ান্ত অনুমোদন দিবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের প্রতিরক্ষা আধুনিকীকরণ এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে এই জোট বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক জটিলতা বিবেচনা করে সরকারকে সতর্কতার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
শেষপর্যন্ত, যদি বাংলাদেশ এই চতুর্মুখী জোটে যোগ দেয়, তা হবে মুসলিম বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে এক নজিরবিহীন নিরাপত্তা সমন্বয়।
সূত্র: টাইমস অফ ইসলামাবাদ