
আজ (২৮ জুলাই) বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। হেপাটাইটিসজনিত মৃত্যুর দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বর্তমানে দেশে প্রায় ১ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ এই দুই ভাইরাস।
তারা জানান, দেশে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের মোট ঘটনার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের সংক্রমণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস নির্মূলে বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জনে সর্বজনীন স্ক্রিনিং কর্মসূচি চালুর পাশাপাশি পরীক্ষা, টিকাদান ও আধুনিক চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং চিকিৎসার আওতা সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বিকল্প নেই।
প্রতিবছর বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ও সি থেকে সৃষ্ট লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। অথচ সময়মতো প্রতিরোধ, টিকাদান এবং চিকিৎসার মাধ্যমে এ দুই ধরনের হেপাটাইটিস অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস ও এর টিকার আবিষ্কারক নোবেলজয়ী অধ্যাপক বারুচ এস. ব্লামবার্গের জন্মদিন স্মরণে ২০১০ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২৮ জুলাইকে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলাদেশেও প্রতি বছরের মতো নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘হেপাটাইটিস: আসুন বাধা ভেঙে এগিয়ে যাই’।
দিবসটি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে লিভার রোগের বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা, আধুনিক রোগ নির্ণয় সুবিধা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের জন্য এককালীন সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, রোগীকেন্দ্রিক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ‘ই-হেলথ কার্ড’ এবং সমন্বিত রোগী তথ্য ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে, যা রোগ নির্ণয়, চিকিৎসা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলোআপ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ৩০ সেকেন্ডে একজন মানুষ হেপাটাইটিসজনিত কারণে মারা যান। দীর্ঘদিন হেপাটাইটিসে আক্রান্ত থাকলে লিভার সিরোসিস ও লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বাংলাদেশে ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ক্ষেত্রে লিভার ক্যানসার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানান, হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত পানি, খাদ্য ও মলবাহিত সংক্রমণের মাধ্যমে ছড়ায়। নিরাপদ পানি পান, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এসব সংক্রমণ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। অন্যদিকে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস আক্রান্ত মা থেকে নবজাতকের মধ্যে, অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং অনিরাপদ যৌন সম্পর্কের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই নিরাপদ স্বাস্থ্যচর্চা, রক্ত পরীক্ষা এবং টিকাদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
