
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি—বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, Valentine's Day। ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতে প্রকৃতির মতোই বাঙালি হৃদয়ও যেন ভালোবাসার রঙে রাঙা হয়ে ওঠে। ফুলে ফুলে রঙিন চারপাশ, আবেগে ভরা দিনটি হয়ে ওঠে বিশেষ।
শুধু ভ্যালেন্টাইনস ডে নয়, একই সাথে দেশের বহু স্থানেই পয়লা ফাল্গুন—অর্থাৎ বসন্তের প্রথম দিনও পালিত হচ্ছে। ঢাকায় বসন্ত ও ভালোবাসার মিলন মেলবন্ধনে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে যুব সমাজ থেকে সাধারণ মানুষের উৎসবমুখর আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, ফুল, গান, পোশাক ও সৌন্দর্যের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপনের প্রবণতা চলছে।
আজকে ঢাকা শহরের ক্যাফে, বাগান রেষ্টুরেন্ট, পার্ক ও শপিং মলগুলোতে যুগল, বন্ধু ও পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে মানুষ উপচে পড়েছে। ফুল, কার্ড, উপহার, হাসি-আনন্দে দিনটি সাজানো হচ্ছে—যা ভালোবাসা দিবসকে আরও বিশেষ করে তুলেছে। আপনি যেতে পারেন বেড়ানোর কোনো জায়গায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সময় কাটাতে।
পশ্চিমা সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে বাঙালির মনে পেয়েছে নিজস্ব ব্যঞ্জনা। এখন এটি কেবল প্রেমিক-প্রেমিকার দিন নয়—মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, সন্তান কিংবা বন্ধুর প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ। উপহার দেওয়া-নেওয়া, ছোট চমক আর আন্তরিক শুভেচ্ছায় দিনটি হয়ে ওঠে অনন্য।
ইতিহাসের পাতা থেকে
ইতিহাসবিদদের মতে, দিনটির নামকরণ হয়েছে খ্রিস্টান পাদ্রি ও চিকিৎসক Saint Valentine–এর নামানুসারে। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রোমান সম্রাট Claudius II Gothicus খ্রিস্টানবিরোধী নীতির প্রেক্ষিতে আহত সেনাদের চিকিৎসা করার ‘অপরাধে’ তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
কথিত আছে, মৃত্যুর আগে সেন্ট ভ্যালেনটাইন তার প্রিয়জনকে একটি চিঠি লেখেন এবং তাতে সই করেন—‘From your Valentine’। পরবর্তীতে তার স্মৃতিকে ঘিরেই ১৪ ফেব্রুয়ারি স্মরণদিবস হিসেবে পালিত হতে শুরু করে, যা ধীরে ধীরে ভালোবাসার প্রতীকে রূপ নেয়।
আরও একটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। প্রাচীন রোমে ১৪ ফেব্রুয়ারি ‘জুনো’ উৎসব পালিত হতো। রোমান পুরাণের বিয়ে ও সন্তানের দেবী Juno–এর নামানুসারে উৎসবটির নামকরণ। সেদিন অবিবাহিত তরুণরা লটারির মাধ্যমে সঙ্গী নির্বাচন করত। প্রায় ৪০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে রোমানরা খ্রিস্টধর্ম গ্রহণের পর ‘জুনো’ উৎসব ও সেন্ট ভ্যালেনটাইনের স্মৃতিকে একসূত্রে গেঁথে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ভালোবাসার দিন হিসেবে উদযাপন শুরু করে। পরে তা ইউরোপ পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
ভালোবাসা শেষ পর্যন্ত এক নির্মল অনুভূতির নাম—যা ভাষা, দেশ, ধর্ম ও বয়সের সীমা অতিক্রম করে মানুষকে মানুষে যুক্ত করে। তাই আজকের দিনে ভালোবাসা হোক আরও উদার, আরও গভীর, আরও মানবিক।