
দেশের চাহিদা মেটাতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এসব পণ্য কিনতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১ হাজার ৪৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) চলতি বছরের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) ৪৬তম সভায় পৃথক প্রস্তাবে এসব ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ৫০ কেজির বস্তায় ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার সুপারিশ করা হয়। খুলনার ফুলতলার জয়তুন অটো রাইস অ্যান্ড ডাল মিলস লিমিটেডকে এ ডালের সরবরাহকারী হিসেবে সুপারিশ করা হয়েছে।
কর ও ভ্যাটসহ মসুর ডাল কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৭৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এতে প্রতি কেজি ডালের দাম পড়বে ৭৬ টাকা ৮৯ পয়সা।
এদিকে সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) চুক্তির আওতায় চারটি লটে সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ও কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশনের (সিসিসি) চুক্তির আওতায় দুই লটে ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির কথা রয়েছে।
এ ছাড়া একই চুক্তির আওতায় তৃতীয় লটে সিসিসি থেকে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনা হবে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার হিসেবে এতে ব্যয় হবে প্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
চতুর্থ লটেও একই দামে আরও ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। এ ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
অন্যদিকে রাশিয়ার জেএসসি ফরেন ইকোনমিক করপোরেশন (প্রডিনটর্গ) এবং বিএডিসির মধ্যে স্বাক্ষরিত রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় সপ্তম লটে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানি করা হবে। প্রতি মেট্রিক টন ৩৮৩ দশমিক ৮০ মার্কিন ডলার দরে এ সার কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ১৬৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা। সরবরাহকারী হিসেবে প্রডিনটর্গকে সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিএডিসি ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান মা’আদেনের চুক্তির আওতায় ২০২৬ সালের চতুর্থ লটে ৪০ হাজার মেট্রিক টন ডিএপি সার আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টনের দাম ৮৮৫ মার্কিন ডলার হিসেবে এ চালানে ব্যয় হবে প্রায় ৪৩৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। সরবরাহকারী হিসেবে মা’আদেনের নাম সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় উপস্থাপিত এসব ক্রয় ও আমদানি প্রস্তাব অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।