
ব্যাংকের পর এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ফাইন্যান্স কোম্পানির খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে আদায় না হওয়া ‘মন্দ’ ও ‘চরম খেলাপি’ ঋণ নিষ্পত্তিতে চালু করা হয়েছে বিশেষ এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্স কোম্পানি প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (এফসিআরপিডি) ‘অনাদায়ি ঋণ আদায় বা সমন্বয়ে বিশেষ এক্সিট সংক্রান্ত নীতিমালা’ শিরোনামে একটি সার্কুলার জারি করে।
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির খেলাপি গ্রাহক এককালীন পুরো মূল ঋণ পরিশোধ করলে প্রয়োজন অনুযায়ী জমে থাকা সুদের আংশিক বা সম্পূর্ণ অংশ মওকুফ করা যাবে। তবে কোনো অবস্থাতেই ঋণের মূল বা আসল অর্থ মাফ করা যাবে না।
এর আগে একই ধরনের বিশেষ সুবিধা বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের জন্য চালু করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এবার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তারল্য সংকট কমানো এবং দীর্ঘদিন আটকে থাকা অর্থ দ্রুত আর্থিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অনিচ্ছাকৃতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ফলে ব্যবসা বা শিল্পপ্রতিষ্ঠান লোকসানে গেলে ঋণের কিস্তিও সময়মতো পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। যারা সম্পূর্ণ ঋণ পরিশোধ করে দায়মুক্ত হতে চান, তাদের জন্য সহজ সুযোগ তৈরি করতেই এ বিশেষ এককালীন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
নীতিমালার প্রধান শর্ত অনুযায়ী, গ্রাহককে একবারেই সম্পূর্ণ বকেয়া ঋণ পরিশোধ করে ঋণ হিসাব বন্ধ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে মূল ঋণ মওকুফের সুযোগ না থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় কেবল সুদের অংশে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যদি বিশেষ কারণে বড় অঙ্কের সুদ মওকুফ করতে হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিট বিভাগ ও অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ (ইন্টারনাল কন্ট্রোল) বিভাগের মতামত ও অনুমোদন নিতে হবে, যাতে অনিয়মের সুযোগ না থাকে।
তবে সব খেলাপি ঋণগ্রহীতা এই সুবিধা পাবেন না। যারা ঋণের অর্থ অন্যত্র পাচার করেছেন বা জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে ঋণ নিয়েছেন, তারা এই বিশেষ সুবিধার আওতার বাইরে থাকবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে যেসব মন্দ ঋণ নতুন করে পুনঃতফসিল করা হয়েছে, সেসব গ্রাহকও চাইলে এককালীন ‘এক্সিট’ সুবিধা নিতে পারবেন। একই সঙ্গে এ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রান্তিক কৃষকদের স্বল্পমেয়াদি কৃষিঋণ এবং কুটির, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণকে অগ্রাধিকার দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন ফাইন্যান্স কোম্পানি আইন, ২০২৩-এর আওতায় জারি করা এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট খেলাপি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এ সুযোগ সম্পর্কে অবহিত করবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এই বিশেষ সুবিধা আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এর মধ্যে আগ্রহী গ্রাহকদের ঋণ সমন্বয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।