
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে সাত দফা দাবি উত্থাপন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সঙ্গে এসব দাবি বাস্তবায়নে নতুন কর্মসূচিও ঘোষণা করেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সমাবেশ শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার কথা রয়েছে।
সমাবেশে সংগঠনের নেতারা বলেন, দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংকের সুশাসন, জবাবদিহি এবং গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
স্মারকলিপিতে উত্থাপিত সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ইসলামী ব্যাংকের জন্য সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে জোরপূর্বক যেসব শেয়ারহোল্ডারের মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছে তাদের মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, এবং ব্যাংক খাতের অর্থ লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন।
এছাড়া শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকগুলোকে ঘিরে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি বন্ধ করা এবং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত এনে ইসলামী ব্যাংকের দেনা পরিশোধে ব্যবহারের জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের কথাও বলা হয়।
আরও বলা হয়, ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংক লুটেরা যাতে পুনরায় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারে, সে জন্য ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টের ১৮-ক ধারা বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে দেওয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, এই ব্যাংক দেশের লাখো গ্রাহকের আস্থা ও আমানতের প্রতিষ্ঠান। তাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।