
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আলতাফ হোসেন বলেছেন, চাকরিচ্যুত কর্মীদের পুনর্বহাল হবে কি না তা সম্পূর্ণভাবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন (সাবজুডিস) হওয়ায় এ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করা সমীচীন নয় বলেও জানান তিনি।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “চাকরিচ্যুত কর্মীরা তাদের দাবিগুলো আদালতে উপস্থাপন করেছেন। তারা কোনও ভিত্তিহীন অভিযোগ নিয়ে আদালতে যাননি। আদালত এসব বিষয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেবেন।”
তিনি আরও বলেন, “একই সঙ্গে বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও উপস্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকও বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে।” আদালত ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত হবে। এখানে আমাদের আলাদা করে কিছু করার সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
চাকরিচ্যুতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আলতাফ হোসেন বলেন, “একটি বড় প্রতিষ্ঠানে সাধারণত নিয়মের বাইরে কিছু করা হয় না।” তবে সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি সরাসরি সম্পৃক্ত ছিলেন না উল্লেখ করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা তার জন্য কঠিন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসলামী ব্যাংক থেকে পাঁচ হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিচ্যুত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। চাকরিচ্যুতদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিয়োগ পাওয়া অনেক যোগ্য কর্মীকেও চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা তারা আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছেন।
জানা গেছে, এ সংক্রান্ত একটি রিট নিম্ন আদালতে খারিজ হওয়ার পর বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়িয়েছে এবং বর্তমানে তা শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত এমডি বলেন, “চাকরিচ্যুতির যৌক্তিকতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতই করবেন। তাই এ বিষয়ে এখন কোনও মন্তব্য করা সমীচীন নয়।”
তিনি আরও জানান, চাকরিচ্যুত কর্মীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি ‘ইন-ডেপথ’ বা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে। সেখান থেকেও একটি সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।