
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ার হস্তান্তর এবং শেয়ার বিক্রির অর্থ দেশে ফেরত আনার (রিপ্যাট্রিয়েশন) প্রক্রিয়া সহজ করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্ট থেকে ৮ মার্চ জারি করা সার্কুলারে বলা হয়েছে, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেনের নিয়ম সহজ করা হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় আগের বিভিন্ন নির্দেশনা একত্র করা হয়েছে এবং শেয়ার মূল্যায়ন, অর্থ প্রেরণ ও রিপোর্টিং প্রক্রিয়ায় কিছু শিথিলতা আনা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমতি ছাড়াই অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংক শেয়ার হস্তান্তর এবং বিক্রির অর্থ বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে পারবে।
নন-রেসিডেন্ট থেকে রেসিডেন্টের কাছে শেয়ার হস্তান্তরের ক্ষেত্রে যদি লেনদেনের মূল্য সর্বশেষ নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ভিত্তিতে নির্ধারিত নেট অ্যাসেট ভ্যালু অতিক্রম না করে, তবে এডি ব্যাংক সরাসরি প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবে।
এছাড়া লেনদেনের পরিমাণ ১০ মিলিয়ন টাকা বা সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার কম হলে স্বাধীন মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রয়োজন হবে না। সে ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে যৌথভাবে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে, যেখানে লেনদেনের মূল্য নির্ধারণের কারণ উল্লেখ থাকবে।
তবে ১ বিলিয়ন টাকা পর্যন্ত লেনদেনের ক্ষেত্রে শেয়ারের মূল্য স্বাধীন মূল্য নির্ধারকের মাধ্যমে ফেয়ার ভ্যালু ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। এর বাইরে কোনো লেনদেন হলে শেয়ার হস্তান্তর ও অর্থ দেশে ফেরত পাঠানোর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে।
নতুন নির্দেশনায় রেসিডেন্ট থেকে নন-রেসিডেন্ট এবং নন-রেসিডেন্ট থেকে নন-রেসিডেন্ট; উভয় ক্ষেত্রেই শেয়ার হস্তান্তরের সুযোগ রাখা হয়েছে, যদি তা ফেয়ার ভ্যালু নীতিমালা অনুসরণ করে। এ ধরনের লেনদেন ১০ মিলিয়ন টাকার কম হলে মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রয়োজন হবে না, তবে যৌথ ঘোষণাপত্র জমা দিতে হবে।
সার্কুলারে শেয়ার হস্তান্তরের জন্য কিছু নতুন প্রক্রিয়াও নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে - লেনদেনের আগে ক্রেতা ও বিক্রেতার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর, মূল্যায়নের জন্য ব্যবহৃত নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ছয় মাসের বেশি পুরোনো না হওয়া এবং স্বাক্ষরের ৪৫ দিনের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা।
এছাড়া সব নথি ঠিক থাকলে এডি ব্যাংককে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে বিক্রির অর্থ বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে।
শেয়ার মূল্যায়ন সঠিকভাবে যাচাই করার জন্য এডি ব্যাংকগুলোকে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। ছোট লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিটির প্রধান হবেন চিফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার এবং বড় লেনদেনের ক্ষেত্রে চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার। কমিটিতে পেশাগত দক্ষতা ও স্বীকৃতি থাকা কর্মকর্তাদের অন্তর্ভুক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।
সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ক্যাপিটাল গেইন ট্যাক্স ও স্ট্যাম্প ডিউটি ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে আনা তহবিল থেকে পরিশোধ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানি এ ব্যয় বহন করতে পারবে না।
এছাড়া এডি ব্যাংকগুলোকে কেওয়াইসি, এএমএল/সিএফটি, কর আইনসহ প্রযোজ্য সব বিধি মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি শেয়ার হস্তান্তরের পর ১৪ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ ইনভেস্টমেন্ট ডিপার্টমেন্টে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, নতুন এই নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত হবে এবং তাদের জন্য অর্থ দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।