
জামালপুরের মেলান্দহে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে স্থানীয় ১৪ থেকে ১৫ জনের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নেওয়ার পর সপরিবারে উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার টাকা নেওয়ার পর রাতেই তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মসজিদের আবাসিক ভবন ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভুক্তভোগীদের পক্ষে মসজিদভিত্তিক মক্তবের শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের (৩০) মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ঢাকার ৩১২ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ীর ফরিদাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
স্বর্ণ ছাড়ানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকা ধার
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফরহাদ হোসেন ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস আগে মাসিক ৪০ হাজার টাকা সম্মানির বিনিময়ে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে দায়িত্ব নেন মুফতি মিজানুর রহমান। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি মসজিদের নির্ধারিত আবাসনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছিলেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার হংকং থেকে এক আত্মীয়ের পাঠানো স্বর্ণ বিমানবন্দর থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য জরুরি অর্থের প্রয়োজন হয়েছে বলে জানান মিজানুর রহমান। তার কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয় ১৪ থেকে ১৫ জন বাসিন্দা তাকে মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার দেন।
টাকা নেওয়ার পর ওই রাতেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে মিজানুর রহমান মসজিদের আবাসন থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরদিন তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন টাকা দেওয়া ব্যক্তিরা। মুঠোফোনে ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি। বিভিন্নভাবে খোঁজ করেও তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মসজিদের মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগের বিষয়ে মুফতি মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ তদন্ত করছে পুলিশ
মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম হক জানান, মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।