
গ্রাহকদের জমা করা কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখার পলাতক কর্মকর্তা শরিফুজ্জামান সোহাগকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার মিরপুর-১-এর পাইকপাড়া এলাকা থেকে ডিবি ও শ্রীনগর থানা পুলিশের যৌথ দল তাকে আটক করে।
বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) কামরান হাসান আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শরিফুজ্জামান মিরপুর-১ এলাকায় তার বোনের বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে রাতেই তাকে মুন্সীগঞ্জে নিয়ে আসা হয়। বুধবার তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর কথা রয়েছে।
শরিফুজ্জামান সোহাগ শ্রীনগর অগ্রণী ব্যাংক শাখায় অফিসার (ক্যাশ) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকের জমা স্লিপ ব্যবহার করে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার শাখা ব্যবস্থাপক সরফুদ্দিন তার বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠায়।
ব্যাংক ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন দিনে ২৫৫ জন গ্রাহক লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে রোববার ১৮৪ জন, সোমবার ৪৬ জন এবং মঙ্গলবার ২৫ জন অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগে গ্রাহকেরা এক লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৮৪ লাখ টাকা পর্যন্ত পাওনা থাকার দাবি করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযোগের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ ২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সীগঞ্জ জেলার শাখাগুলোর দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা একজনকে অভিযুক্ত করে জিডি করেছি। একই সঙ্গে আত্মসাতের ঘটনায় ব্যাংকের আরও কেউ জড়িত কি না এবং অর্থের প্রকৃত পরিমাণ কত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা দুদকের উপপরিচালক ইসমাঈল হোসেন জানান, গত শুক্রবার ব্যাংকের পক্ষ থেকে করা একটি জিডি দুদকে পাঠানো হয়েছে। পরে রোববার সেটি দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। কমিশন পরবর্তী অনুসন্ধান বা তদন্তের বিষয়ে যে নির্দেশনা দেবে, সে অনুযায়ী কার্যক্রম চালানো হবে।
তিনি বলেন, তদন্তের পরই ঘটনার প্রকৃত চিত্র ও আত্মসাৎ হওয়া অর্থের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখনো এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। তাই শরিফুজ্জামানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।