
ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়ায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের মামলায় মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাঁকে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁওয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল ইসলাম রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে রুহিয়া থানায় মামলা করা হয়। পরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ও ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী ধোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে থেকে রুবেল মুঠোফোনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং প্রেম ও বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। কিশোরী এতে সম্মতি না দিলেও বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে রুবেল তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।
২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে কিশোরী তাঁর মাসির বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিল। মামলার অভিযোগে বলা হয়, আগে থেকে সেখানে অবস্থান করা রুবেল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে একটি অটোরিকশায় তুলে অজ্ঞাত একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কিশোরী চলে যেতে চাইলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়।
পরে রুবেল তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে আবারও বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
বিষয়টি স্থানীয় লোকজন জানতে পেরে কিশোরীকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য রুবেলকে চাপ দেন। এরপর একটি অজ্ঞাতনামা অটোরিকশায় করে কিশোরীকে বাড়ির দিকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ৮ নভেম্বর রাত আনুমানিক সোয়া দুইটার দিকে তিনি বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানান। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় রুবেল ইসলামকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আইনের ৯(১) ধারায় তাঁকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, সাজাগুলো একই সঙ্গে কার্যকর হবে। জরিমানার অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ অর্থ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সম্পদ থেকে আদায়ের ব্যবস্থা করতে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাঁকে গ্রেপ্তার বা আদালতে আত্মসমর্পণের দিন থেকে সাজা কার্যকর হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার নথিতে ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ না করার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনে তাঁর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।