
যশোরে পাওনা টাকা আদায়ের দাবিতে দেনাদারের বাড়ির নিচে বিভিন্ন ফেস্টুন নিয়ে একটি টুলে বসে অভিনব প্রতিবাদ শুরু করেছেন আল আমিন (৪৫) নামে এক প্রবাসফেরত ব্যক্তি। গত দুই দিন ধরে নিয়ম করে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি পালন করছেন তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল থেকে শহরের আরএন রোড এলাকার ‘রওনক সানফ্লাওয়ার’ টাওয়ারের নিচে এ প্রতীকী অনশন শুরু করেন আল আমিন।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায়ও তাকে সেখানে অনশনে বসতে দেখা যায়। পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
শারীরিকভাবে অসুস্থ আল আমিন যশোর শহরের নাজির শঙ্করপুর এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে।
আল আমিন জানান, চার বছর আগে টাওয়ারটির অন্যতম শরিক মালিক সাদাত শাহরিয়ার পলাশের কাছ থেকে বায়নামূলে ১০ লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি দোকানঘর নেন তিনি। তার বিয়াই মিজানুর রহমানের মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করা হয়। চার মাস আগে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন আল আমিন। দেশে ফেরার পর পায়ে এবং পায়ুপথে দুটি অস্ত্রোপচার করান তিনি। বর্তমানে চরম অর্থকষ্টের মধ্যে রয়েছেন। এ কারণে কয়েক দফা পাওনা টাকা ফেরত চাইলেও তা না দিয়ে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
আল আমিন বলেন, বায়না নেওয়ার পর থেকে তিনি ও তার স্বজন মিজানুর রহমান কয়েক দফা সাদাত শাহরিয়ার পলাশকে দোকানটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন তিনি। জমি রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ায় টাকা ফেরত চাইলে নানা ধরনের টালবাহানা করা হচ্ছে। টাকা ফেরত পেতে কোনো উপায় না দেখে অনশনে বসেছেন তিনি। শরীর অনেক অসুস্থ হলেও বাধ্য হয়ে এই কর্মসূচি পালন করছেন বলে জানান আল আমিন।
এ অবস্থায় পাওনা টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
প্রতীকী অনশনকারী আল আমিন বলেন, যতদিন পর্যন্ত তার পাওনা টাকা আদায় না হবে, ততদিন এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আল আমিনের আত্মীয় মিজানুর রহমান বলেন, চার বছর আগে ১৭৭ বর্গফুট আয়তনের দোকানঘরটি ১০ লাখ ২০ হাজার টাকায় নেওয়া হয়। কিন্তু বারবার বলা সত্ত্বেও পলাশ সাহেব দোকানঘরটি আল আমিনের নামে রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না। বর্তমানে দোকানঘরটি তালাবদ্ধ রয়েছে এবং তিনি সেটি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।
টাকা গ্রহণের পরও দোকান রেজিস্ট্রি করে না দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কাজী সাদাত শাহরিয়ার পলাশ বলেন, তার মা জীবিত থাকাকালে তার ইচ্ছা অনুযায়ী দোকানঘরটি আল আমিনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। বছরখানেক আগে তার মা মারা যান। দোকানঘরটি রেজিস্ট্রি করে দিতে গেলে তার অন্য শরিক তিন বোন রাজি হচ্ছেন না। তবে বায়নার ১০ লাখ টাকা শরিকরাও নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
সাদাত শাহরিয়ার পলাশ বলেন, আল আমিনের সঙ্গে তার দুই দফা কথা হয়েছে। তাকে যত দ্রুত সম্ভব দোকানটি অন্যত্র বিক্রি করে তার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।