
রংপুর নগরী ও আশপাশের এলাকায় মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটি পৃথক ঘটনায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। একই পরিবারের চার সদস্যসহ ধারাবাহিক এসব নৃশংস হত্যাকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পরপর কয়েকটি হত্যার ঘটনায় রংপুরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে রোববার রাতে রংপুরের হারাগাছ থানা এলাকায়। এর আগে নগরের তাজহাটে এক ব্যক্তি এবং মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করা হয়।
নির্জন সড়কে যুবকের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ
পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন হারাগাছ থানা এলাকার চরচতুরা গ্রামের একটি নির্জন সড়ক থেকে আবু সিদ্দিক (৩৫) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি হারাগাছ ইউনিয়নের পল্লীমারি হকের বাজার এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রোববার সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের লালমনিরহাট সদরের মিলন বাজারে গিয়েছিলেন সিদ্দিক। রাত ৯টার দিকে স্বজনেরা তাঁর হত্যাকাণ্ডের খবর পান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক চৌহান জানান, নিহতের মুখ, ঘাড় ও গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক কোপের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
শিক্ষক পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা
এর মাত্র এক দিন আগে, ২২ আগস্ট গভীর রাতে রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় একই পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতরা হলেন রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে ধারণা করা হলেও পরে পুলিশ জানায়, ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী দুই তরুণ মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা প্রথমে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে হত্যা করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদেরও হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাটিকে ডাকাতির রূপ দিতে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করে ছড়িয়ে রাখা হয়েছিল। অভিযুক্ত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রিকশা গ্যারেজ থেকে শুরু
ধারাবাহিক এসব নৃশংসতার শুরু গত ১৩ আগস্ট সকালে। রংপুর নগরের তাজহাট আনসারি মোড় এলাকার একটি রিকশা গ্যারেজের ভেতর থেকে আবদুর রহমান নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বাইর থেকে শাটারে তালা দেওয়া ওই গ্যারেজের ভেতর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তালা কেটে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, শক্ত কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
মাত্র ১০ দিনের মধ্যে রংপুরের তিনটি ভিন্ন এলাকায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।