
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় মুরগি চুরির অপবাদ দিয়ে চল্লিশোর্ধ্ব এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সেনবাগ থানায় চারজনকে আসামি করে মামলা করেছেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় উপস্থিত কয়েকজন মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করেন। পরে তাদের ধারণ করা প্রায় ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও স্থানীয়দের মুঠোফোনে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে দেখা যায়, মধ্যবয়সী ওই নারীকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। এ সময় কয়েকজন তাকে ঘিরে মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছিলেন। একপর্যায়ে ওই নারী মুখ ঢাকার চেষ্টা করলে একজন এসে তার মুখের কাপড় সরিয়ে দেন। পরে আরেক ব্যক্তি ওই নারীর হাতে কয়েকটি মুরগি ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ঘটনার বিচার চেয়ে নির্যাতনের শিকার নারী বুধবার দুপুরে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, মুরগি চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে মারধর, নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, ওই নারীর করা মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি করে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন। তাদের অভিযোগ, মুরগি চুরির ঘটনা ধামাচাপা দিতে থানায় মিথ্যা মামলা করে এলাকার লোকজনকে হয়রানি করছেন ওই নারী।
থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে ভুক্তভোগী নারী উল্লেখ করেন, তার স্বামী প্রবাসে থাকেন। তিনি একাই বসবাস করেন এবং হাঁস-মুরগি ও ছাগল পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আসামিদের সঙ্গে তার জায়গাজমি নিয়ে বিরোধ চলছিল।
এজাহারে বলা হয়, শুক্রবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি ঘরে বসে মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ সময় কয়েকজন লোক বসতবাড়ির টিনের দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। তারা তার মুঠোফোন কেড়ে নেন, পরনের কাপড়চোপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করেন এবং জোর করে পাশের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেন। এরপর সেখানে থাকা দুজন তার সোনার চেইন ছিনিয়ে নেন।
ওই নারীর অভিযোগ, সেখানে থাকা এক ব্যক্তি তার খামার থেকে মুরগি চুরির অভিযোগ তোলেন। এরপর তারা দিবাগত রাত একটা পর্যন্ত তাকে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মেরে আহত করেন। অভিযুক্তরা তার বসতঘর থেকে চারটি মুরগি এনে সেগুলো তিনি চুরি করেছেন বলে অপবাদ দেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় চেয়ারম্যান উপস্থিত থাকলেও তিনি নির্যাতনকারীদের পক্ষ নেন বলে অভিযোগ করেন ওই নারী।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই নারীকে আটকের পর তিনিও সেখানে যান। তখন নারী মুরগি চুরির কথা স্বীকার করেন এবং তার ঘর থেকে ৪৫টি মুরগি উদ্ধার করে খামারিকে দেওয়া হয়। পরে দিবাগত রাত একটার দিকে ওই নারী তার স্বজনদের নিয়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি শ্লীলতাহানি ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ করেন এবং এ ঘটনায় মামলা করবেন বলে জানিয়ে যান।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়। গাছে বেঁধে রাখার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। নারীর লিখিত অভিযোগ নারী নির্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। মামলায় একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।