
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬ উপলেক্ষ্য দেশের বাজারে সকল প্রকার মাছের যৌক্তিক উৎপাদন ও আহরণ মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি সর্বস্তরে ন্যায্য খুচরা বিক্রয়মূল্য বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন-কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি)।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত-এর হাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর লেখা একটি স্মারকলিপি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন সিআরবি খাগড়াছড়ি জেলা শাখার নেতারা। স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা, সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ সহ অন্যান্যরা।
স্মারকলিপিতে দেশের মৎস্য খাতের বিদ্যমান অস্থিতিশীলতা ও ভোক্তাদের দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, 'স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও দেশে সরকারিভাবে মাছের দাম নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণের কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে ওঠেনি। অথচ এ খাতের গবেষণা ও উন্নয়নের দায়িত্বে মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন, মেরিন ফিশারিজ একাডেমি এবং মৎস্য প্রশিক্ষণ একাডেমির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থা সক্রিয় রয়েছে।'
সিআরবি নেতারা উল্লেখ করেন, 'প্রতিবেশী দেশ ভারতে ইলিশের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন খুচরা মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণের সুবিধা থাকলেও বাংলাদেশে এ ধরনের ব্যবস্থা অনুপস্থিত। এর সরাসরি সুযোগ নিচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট। অসাধু সিন্ডিকেটের প্রভাবে একদিকে যেমন প্রান্তিক মৎস্য চাষি ও জেলেরা ঘামঝরানো শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের পকেট কেটে চড়া দামে মাছ কিনতে বাধ্য করা হচ্ছে।
স্মারকলিপির তথ্য অনুযায়ী, বিগত মাত্র ৫ বছরে দেশে ইলিশের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ। শুধু ইলিশই নয়, চাষকৃত মাছ কিংবা নদী ও সামুদ্রিক মাছের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের দৈনিক খাদ্যতালিকা থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিনের জোগান দেওয়া দিন দিন অসম্ভব হয়ে উঠছে।
এ সংকটময় পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে এবং বাজারব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে সিআরবি-র পক্ষ থেকে ৫ দফা সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করা হয়। দাবীগুলো হলো- ১. জেলা ও মাছের প্রজাতিভিত্তিক যৌক্তিক 'ফার্ম গেট' বা 'ল্যান্ডিং প্রাইজ' এবং খুচরা বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে তা নিয়মিত সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা। ২. ইলিশসহ নদী ও সামুদ্রিক মাছের আহরণ, বাজারজাতকরণ ও মূল্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতিমালা প্রণয়ন করা। ৩. সরকারি ওয়েবসাইট, জাতীয় গণমাধ্যম এবং প্রতিটি খুচরা বাজারে নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান রাখা ও প্রচার নিশ্চিত করা। ৪. অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও অসাধু ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মুনাফালোভী প্রবণতা বন্ধে নিয়মিত সমন্বিত বাজার মনিটরিং এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ ঘটানো ও ৫. মৎস্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে একটি গতিশীল 'জাতীয় মৎস্য মূল্য পর্যবেক্ষণ ও মূল্য-তথ্য ব্যবস্থা' গড়ে তোলা।