
সিলেটে মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে দুই দফায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে প্রথমে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এবং পরে পাঁচ মাইল বাজারে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে দলটি।
ঘটনার পর এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, "মাত্র ২০ মিনিটের ব্যবধানে সিলেটে দুই দফা হামলা, এটাই কি আইনের শাসন?"
এদিকে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমও ফেসবুকে পৃথক দুটি পোস্টে হামলার অভিযোগ করেন। এক পোস্টে তিনি লেখেন, "বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চান?"
এর আগে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লিখেন, "সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে।"
প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপি সূত্রে জানা গেছে, গোলাপগঞ্জ উপজেলার শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে ফেরার পথে পুলিশের প্রটোকলের মধ্যেই দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম ও ডা. মাহমুদা মিতুর গাড়িবহরে প্রথম হামলার ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার হলরুমে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ সাতটি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অনুষ্ঠান শেষে পুলিশি প্রটোকলে পৌরসভা ভবন থেকে গাড়িবহর বের হলে গেটের বাইরে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা পানির বোতল ও ইটপাটকেল ছুড়ে মারেন।
গাড়িবহর কিছুদূর এগোতেই একটি ইট সারজিস আলমকে বহনকারী গাড়ির কাচে আঘাত করে। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এনসিপির নেতারা। এ সময় ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে মিছিল নিয়ে গাড়িবহরের পিছু নিতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এ হামলার বিষয়ে এনসিপি সিলেট জেলা শাখার আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিএনপির একদল উচ্ছৃঙ্খল কর্মী তাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলাকারীদের ঠেকাতে পুলিশ কার্যকর কোনো ভূমিকা পালন করেনি। এ ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানায় দলটি।
দেশব্যাপী ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সিলেটের পাঁচটি উপজেলায় পদযাত্রা করার কথা রয়েছে এনসিপির। একই দিনে কানাইঘাট ও ওসমানীনগরেও দলটির কর্মসূচি ছিল। এসব কর্মসূচিতে অংশ নিতেই দলের কেন্দ্রীয় নেতারা বর্তমানে সিলেটে অবস্থান করছেন।